আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে ৬৪০ ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি

সরকারি গেজেটেড অফিসারদের জন্য নগরীতে ৫৭৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট ও ৬৪টি ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ১৫টি পরিত্যক্ত বাড়িতে এসব ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গণর্পুত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ পৌনে ৫০০ কোটি টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ ধীরে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, কাতালগঞ্জ, ও আর নিজাম রোড, জাকির হোসেন রোড, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা এবং সার্সন রোডে গণপূর্ত বিভাগের ১৫টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এসব আবাসিক ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি নির্মাণ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ। এসব বাড়ির ১৪টিতে সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য ৫৭৬ ফ্ল্যাট ও অবশিষ্ট একটি বাড়িতে ৬৪টি ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রকল্প থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ৪৭৬ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারিত আছে। নির্মিতব্য ফ্ল্যাটগুলোর মধ্যে ১৫শ’ বর্গফুটের ৪১৪টি, ১২৫০ বর্গফুটের ১৬২টি ফ্ল্যাট এবং ২৫০ বর্গফুটের ৬৪টি ডরমেটরি থাকবে। চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৫টি বাড়ির মধ্যে

ইতোমধ্যে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১৫, ৫২, ৮৪, ৯৫, ১১৪, ১২৭নং এবং কাতালগঞ্জের ৩৮নং বাড়িতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ও আর নিজাম রোড, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকা, জাকির হোসেন রোড এবং সার্সন রোডের অবশিষ্ট বাড়িগুলোতে কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি বাড়ির মধ্যে ৭টি বাড়ি খালি করে এসব বাড়িতে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট বাড়িগুলো খালি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে গণর্পূত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৫টি পরিত্যক্ত বাড়ি চিহিৃত করা হয় প্রথমে। এসব বাড়ির মধ্যে অর্ধেক খালি করে সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। তবে এর মধ্যে বিভিন্ন জটিলতার কথাও জানান তাঁরা। চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, পরিত্যক্ত বাড়িতে আমরা সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছি। ১৫ বাড়ির মধ্যে ৭টি বাড়িতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকী ৮টি বাড়িতেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে চট্টগ্রাম শহরের এ ১৫টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট ও ডরমেটরি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা ধীর গতি লক্ষ্যণীয়। কারণ ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণের দুই বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭টি বাড়ি খালি করে কাজ শুরু করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমান সরকার এ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে যেসব ভবনে সরকারি অফিসারদের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে তার অধিকাংশই একেবারে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বাসায় ঢুকে যাওয়ায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সকল সরকারি অফিসারের জন্য আবাসন নিশ্চিত করাও সম্ভব হয়নি। বাস্তব এ অবস্থাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সরকারি অফিসারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

মন্তব্য