আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমিয়ে আবাসন খাত চাঙ্গা করার উদ্যোগ

দেশের আবাসন খাত চাঙ্গা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রিয়েল স্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সদস্যদের নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠকও করেছে এ কমিটি। বৈঠকে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় অত্যধিক হওয়ায় ফ্ল্যাট-প্লটের ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন করায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও জমির মৌজা মূল্য বৃদ্ধির কারণে জমির রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বাড়ছে। ফলে সরকার এ খাত থেকে যথাযথ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে কর কমিয়ে ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি বাজার চালু করতে পারলে একদিকে আবাসন খাত যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে সুপারিশ করে কমিটি।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাবের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমানো হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতে এ কর কমানো হতে পারে। ইতোমধ্যে এনবিআর-রিহ্যাবের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এ ব্যাপারে উভয় পক্ষই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।জানা গেছে, প্লট ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ফি অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবি করেছে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাব। তারা বলছেন, আবাসন শিল্পে স্থবিরতার জন্য অত্যধিক রেজিস্ট্রেশন ব্যয় দায়ী। বর্তমানে উৎসে কর, ভ্যাট, আয়কর এবং বিভিন্ন ধরনের ফি মিলে করহার ১৪ শতাংশের বেশি। এটি কমিয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে এলে এ খাতে কিছুটাগতিশীলতা ফিরবে।এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, প্লট ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ফি কমানোর পাশাপাশি ৫ বছরের পুরনো ফ্ল্যাট পুনরায় বিক্রির ওপর রেজিস্ট্রেশন কর মওকুফ করা হতে পারে।

এনবিআর-রিহ্যাব ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া আমাদের সময়কে বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে আবাসন খাতের সমস্যা চিহ্নিত করতে এনবিআর-রিহ্যাবের সদস্যদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত কমিটি দুটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন কর কমাতে বলা হয়েছে এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আগামী বছরের শুরুতে প্লট-ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কর কমানের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছি।প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্লট ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩ শতাংশ।এ ছাড়া ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভ্যাট গোয়েন্দার অডিটের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সরবরাহকারী ও ভেন্ডরদের কাছ থেকে ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহের জন্য ডেভেলপারদের সংগ্রহকারী হিসেবে চিহ্নিত করে একতরফাভাবে দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে এনবিআর ডেভেলপার কোম্পানি পরিদর্শন করে কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে আসছে। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডেভেলপারদের সংগ্রহকারীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ অধিকাংশ ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নগদ টাকায় নির্মাণসামগ্রী কিনে থাকে, তাই ভ্যাট ও উৎসে কর সংগ্রহের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয় না। তা ছাড়া অনেক আইটেমের সরবরাহকারী ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে না। এ ধরনের ভেন্ডরের কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করা যায় না।

মন্তব্য