আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আবাসন : এক বিকেলে শেল্‌টেক্‌ বীথিকায়

পাশের ভবনগুলো ক্রমেই ছোট হতে হতে ডুবে গেছে কুয়াশায়। সফেদ কুয়াশায় মোড়ানো বসতি ভেদ করে তখনো সবার দৃষ্টি খুঁজে ফিরছিল তুরাগ নদ। শেল্‌টেকের পরিচালক সামিয়া সেরাজ বলে উঠলেন, ‘তুরাগ আজ কুয়াশার দখলে।’ মনে মনে বলি, কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া তুরাগ দেখা না হোক। নগরে এমন বিস্তৃত কুয়াশায় মেলা দেখাও তো ভাগ্যের ব্যাপার।

এলাকাটি মিরপুর ১ নম্বরের কাছে লালকুঠি মসজিদের পাশে। এখানেই শেল্‌টেক্‌ প্রাইভেট লিমিটেডের আবাসন প্রকল্প—শেল্‌টেক্‌ বীথিকা। পাশাপাশি চারটি ১৪ তলা ভবন নিয়ে বিশেষায়িত এই আবাসন প্রকল্প। শেল্‌টেক্‌ বীথিকার মূল ফটক পেরিয়ে হাতের বাঁয়ে প্রথম ভবন। ডান পাশে একে একে তিনটি ভবন। দ্বিতীয় ভবন থেকে চতুর্থ ভবনের চারতলা পর্যন্ত রয়েছে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। পঞ্চম তলা থেকে ১৪ তলা পর্যন্ত চারটি ভবনে ১৮৪টি অ্যাপার্টমেন্ট (প্রতিটি ১৩৪০ থেকে ১৫৭৫ বর্গফুট) আর ১২টি বাণিজ্যিক জায়গা নিয়ে বীথিকা। আমরা তখন ছিলাম তৃতীয় ভবনটার ছাদে।

ছাদ থেকে নামার সময় সামিয়া সেরাজ বললেন, ‘নগরজীবনে মানুষের বসবাসের সমস্যা মাথায় রেখেই আমরা চেষ্টা করি প্রকল্প পরিকল্পনা করতে। এমনই একটি প্রকল্প শেল্‌টেক্‌ বীথিকা। মূলত মধ্য আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করেই এটি তৈরি করা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে সব সুবিধা একই সীমানার ভেতর নিয়েই শেল্‌টেক্‌ বীথিকা।’

সুসজ্জিত একটি ঘরসুসজ্জিত একটি ঘর মিষ্টি রোদের বিকেলে

বিকেলে মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে আমরা আবার লিফটে উঠি নিচে নামব বলে। শেল্‌টেক্ বীথিকার তিনটি ভবন এখনো বাসিন্দাশূন্য। তাই বিভিন্ন তলায় থেমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার সুযোগ হলো অবলীলায়। তখন আমাদের সঙ্গী শেল্‌টেকে্‌র কয়েকজন কর্মী।

 ‘এই যে এদিকে আসুন। এটি জিমনেসিয়াম। পাশেও আছে আরেকটা। সেটা নারীদের জন্য।’ একজন পাশ থেকে বলেন। দরজা খুলে দেখি ব্যায়ামাগার সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো। অপেক্ষা শুধু অধিবাসীর।

ব্যায়ামাগার পেরিয়ে সুইমিংপুলের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। প্রমাণ সাইজে সুইমিংপুলটা পানিপূর্ণ। কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।

সেখান থেকে সুসজ্জিত অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান তাঁরা। আসবাবসহ অন্দরের সবকিছুই সাজানো। ক্রেতারা চাইলে নিজের ইচ্ছেমতো সাজাতে পারেন নিজের অ্যাপার্টমেন্ট। আবার সুসজ্জিত এসব অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও পছন্দ করতে পারেন। শেল্‌টেকে্‌র কর্মীদের কথাতেই জানা যায় তথ্যগুলো। একটি বাথরুম দেখিয়ে পরিচালক সামিয়া সেরাজ বলেন, হুইলচেয়ারে চলাচল করেন এমন মানুষেরাও যেন সহজেই ব্যবহার করতে পারেন, সে কথা ভেবেই প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি প্রসাধনকক্ষ তৈরি করা হয়েছে।

ব্যায়ামাগারব্যায়ামাগার সবুজে বসবাস

সীমানাপ্রাচীরের পাশ ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে হাঁটার পথ। সবুজ ঘাসের ছোট ছোট জায়গা রাখা হয়েছে শিশুদের জন্য। পাশাপাশি তিনটি ভবন ঘুরে আমরা নিচে নেমে সেই ওয়াকওয়ে ধরে খানিকটা হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে সামিয়া সেরাজ বলেন, বীথিকার বাসিন্দাদের যেন হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক হয়, এখানকার শিশুরা যেন খেলাধুলা করার সুযোগ পায়, এমন চিন্তা থেকেই এই ব্যবস্থা। আজকাল নগরজীবনে মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে, তা যেন ঘুচে যায়।

কথা বলার এক ফাঁকে একটি জায়গা দেখালেন। জানলাম, সেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি দিয়েই প্রায় আট মাস গাড়ি পরিষ্কার আর বাগানের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

সবুজের হাঁটা পথ ছেড়ে চলে আসি প্রথম ভবনের নিচতলায়। এটি অভ্যর্থনাকক্ষ। এরপর সুপারশপের জায়গা। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা এখান থেকেই সারতে পারবেন। ওপরের তলায় শেল্‌টেকের ব্যবস্থাপনা কার্যালয়। তৃতীয় তলায় কমিউনিটি সেন্টার। ২০০ জন মানুষের জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায় এমন ব্যবস্থা রয়েছে। বীথিকার বাসিন্দারা ছোটখাটো আয়োজনগুলো এখানেই সারতে পারবেন। এর পাশেই আছে নারী ও পুরুষের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা।

এসব দেখে আমরা গিয়ে বসি একটি কনফারেন্স কক্ষে। শেল্‌টেকের বিপণন বিভাগের প্রধান আরিফুল ইসলাম জানালেন, ‘প্রকল্পের কিছু অ্যাপার্টমেন্টে বাসিন্দা উঠলেও কিছু অ্যাপার্টমেন্ট এখনো বিক্রি চলছে। ১৭ জানুয়ারি থেকে চলছে ‘বীথিকা রেডি অ্যাপার্টমেন্ট ফেয়ার-২০১৯’। ১৯ জানুয়ারি মেলার শেষ দিন। মেলা উপলক্ষে অ্যাপার্টমেন্ট বুকিং দিলে আমরা ক্রেতাদের তিন লাখ টাকা মূল্যছাড় অথবা রেডি অ্যাপার্টমেন্টের ওপর সর্বোচ্চ ১২ মাসের কিস্তি সুবিধা দিচ্ছি।’

বীথিকায় ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজনবীথিকায় ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজনসেখানেই কথা হয় দুজন বাসিন্দার সঙ্গে। তাঁদেরই একজন আমজাদ আলী। পেশায় চিকিৎসক। ধানমন্ডি থাকতেন। বছর দেড়েক হলো এখানে প্রথম ভবনটার একটি অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছেন। বললেন, ‘পরিবেশ, নিরাপত্তা, সেবা—এই তিনটাই অতুলনীয়। আমার অফিসে যেতে কিছুটা কষ্ট হলেও নিজের বাসায় ফেরার একটা আলাদা আনন্দ আছে। সুপরিসর জায়গা। হাতের কাছে সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া যায়। হাঁটাচলার জন্য সুন্দর জায়গা। পারিবারিক আবহ। সত্যিই খুবই হ্যাপি আমরা।’

শফিক মিন্টু নামের আরেক বাসিন্দা তাঁর কথায় সায় দেন। শফিক পেশায় ব্যবসায়ী। আমজাদ আলী এবং তিনি একই সময়ে উঠেছেন। তাঁদের কথা বলার ধরন বলে দিচ্ছিল, দুজনে দীর্ঘদিনের পরিচিত। যেন আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। শফিক মিন্টু বললেন, ‘আমার পারিবারিক বাসা এই এলাকাতেই। বাচ্চাদের কথা ভেবে এখানে অ্যাপার্টমেন্ট নিয়েছি। অফিস মিরপুর-১ নম্বরে। কারখানা সাভারে। যাতায়াতসহ নানাবিধ আধুনিক সুবিধাও পাচ্ছি এখানে উঠে।’

তাঁদের কথাতেই জানা গেল, এখানকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকছে শেল্‌টেক্‌। শেল্‌টেক্‌ বীথিকা সোসাইটির সদস্য হিসেবে প্রয়োজনীয় ফি দিয়েই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটা, ব্যায়াম করাসহ সব সুবিধা পাবেন বাসিন্দারা। চৌহদ্দির ভেতর এমন আধুনিক সুবিধাসংবলিত অ্যাপার্টমেন্টের স্বপ্ন কার না আছে, শেল্‌টেক্‌ বীথিকা বুঝি সেই স্বপ্নেরই বাস্তব রূপ। প্রথম আলো

মন্তব্য