আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
গুলশান-বনানী-বারিধারার বহুতল ভবনেও নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা

শুধু পুরান ঢাকা নয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-বারিধারার বহুতল ভবনেও নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নজরদারির দায়িত্ব থাকলেও বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন অব্যবস্থাপনা। অথচ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার শর্তেই রাজউক ওইসব বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়।

রাজধানীর চকবাজারে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও  প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘গুলশান, বারিধারায় নামিদামি আবসিক কিংবা বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কীভাবে রাজউক ওইসব ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়? অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্স লাগে না?’

সচিবের এ প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘লাগে’। ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের পর সচিব বলেন, ‘কেউ তো লাগায় না।’

ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা সচিবকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হাই-রাইজ ক্যাটাগরিতে একটি গ্যাপ আছে। ছয়তলার ওপরে সাততলা উঠলে তা আমাদের কাছে হাই-রাইজ। আর রাজউকের ক্যাটাগরি ১০ তলার ওপরে ১১ তলা থেকে। কাজেই ছয়তলা ভবনগুলোর তথ্য আমাদের কাছে আসে না। ১০ তলার ওপরের ভবনগুলোর তথ্য পাই।’

ফায়ার সার্ভিসের এই বক্তব্যের পর রাজউকের কাছে বিষয়টি জানতে চান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।

রাজউকের পক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব ভবন ১০ তলার বেশি, সেসব ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক ভবনে আছে, আমরা ফায়ার সার্টিফিকেট নিয়ে অনুমোদন (ভবনের অনমোদন)দেই।’

রাজউকের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সচিব বলেন, ‘গুলশান ও বনানীর পাঁচটি বাড়িতে গেছি, কোনও বাড়িতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সেফটির ওপর কাজ করেছেন মেজর মতিন। আমি তাকে নিয়ে গেছি। বাড়িতে তো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই, কোনও অফিসেও নেই। কীভাবে এগুলো অনুমোদন পেলো?  অনুমোদন লাগে না?’

রাজউকের প্রতিনিধি বলেন, ‘ক্লিয়ারেন্স লাগে।’

রাজউকের কর্মকর্তাকে সচিব বলেন, ‘যে বাড়িতে দুর্ঘটনা, ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলায় আপনি গেছেন? ওই বাড়ির নিচতলায় ড্রামকে ড্রাম কেমিক্যাল রাখা হয়েছে, আপনি দেখেছেন?’

রাজউকের কর্মকর্তা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনও মনিটরিং নেই, স্যার। আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো, আপনারা গিয়ে চকবাজারের পাঁচটি বিল্ডিংয়ের অবস্থা দেখবেন। আমি জানি না, পূর্ত মন্ত্রণালয় কেন নড়েচড়ে না?’

অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা যেসব ভবনে নেই সেখানে নতুন করে ব্যবস্থা করতে রাজউককে নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শহা কামাল। তিনি বলেন, ‘যেসব বাড়ি হয়ে গেছে তো গেছেই। এখন রিহ্যাবের (আবাসন খাতের সরকার স্বীকৃত একমাত্র সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সদস্যদের ইনভলব করে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থায় আনতে হবে। ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হবে।‘

রাজধানীসহ দেশের মানুষকে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে সচেতন করতে মহড়ার আয়োজন করার কথাও জানান সচিব। এছাড়া অগ্ননির্বাপক যন্ত্র স্থাপন ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার জন্য প্রতিটি এলাকা ও বহুতল ভবনে আলাদা পানির লাইন স্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। বাংলাট্রিবিউন

শেয়ার করুন