আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
‘রাজউক হবে জনবান্ধব, কেউ হয়রানির শিকার হবেন না’

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে রাজউক হবে সমৃদ্ধ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান। এখানে কেউ হয়রানির শিকার হবেন না, কোনোরকম অভিযোগ আমরা পাব না।’

রোববার রাজউক অডিটোরিয়ামে উত্তরার ১৮ নং সেক্টরে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ফ্ল্যাট বরাদ্দপ্রাপ্তদের ফ্ল্যাট আইডি প্রদান সংক্রান্ত তৃতীয় লটারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি উদ্যোগে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যাতে কোনো মানুষ আর আবাসনহীন না থাকে। প্রান্তিক, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত সকলের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা আমাদের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে তার সাংবিধানিক অধিকার রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়ার। সাংবিধানিক অধিকারের তৃতীয়টি হচ্ছে বাসস্থান। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবাসন খাতে এত বড় প্রকল্প আর কেউ কখনো গ্রহণ করেনি।’

মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, মধ্যবিত্তসহ সকলের জন্য আবাসন সুনিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। ঢাকায় যারা বস্তিবাসী মানুষ, তাদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বস্তিবাসীদের জন্য, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, মধ্যবিত্তের জন্য এবং যারা সচ্ছল তাদের সকলের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমাদের এ কাজে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপেও আমরা কাজ করছি। সিঙ্গাপুর, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশ এগিয়ে আসছে।

যেনতেন উপায়ে ইট-সুরকির দালান দিয়ে একটি নগর গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য নয়, এ কথা উল্লেখে করে মন্ত্রী বলেন, ‘আবাসন হবে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব। আমরা ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তর/সংস্থাকে বলেছি, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে, সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই কোনো নাগরিক যেন অনিয়ম বা হয়রানির শিকার না হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা রাজা নই, আমরা সেবক আর জনগণ মালিক। মালিকের অধিকারকে কাজে লাগাতে হবে। কোনো নাগরিকের ভোগান্তি মেনে নেওয়া হবে না।’

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা সেবা সহজীকরণ করছি, যাতে দীর্ঘসূত্রতা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। এক্ষত্রে রাজউকসহ সকলে সহযোগিতা করছেন’।

ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা, এ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, ১ মে থেকে আমরা সম্পূর্ণ অটোমেশন অর্থাৎ অনলাইন পদ্ধতিতে চলে যাব। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সকল সেবা পাওয়া যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে রাজউক কাজ করছে। সেটা নিরসনে আমরা কাজ করছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দপ্রাপ্তদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন ‘যদি কোনো সমস্যা থাকে অবশ্যই অফিসকে জানাবেন। আমরা চাই, কোনো মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।’ অনুষ্ঠানে ৭৯৭ জনকে ফ্ল্যাট আইডি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং ফ্ল্যাট প্রাপ্তগণ উপস্থিত ছিলেন। রাইজিংবিডি

শেয়ার করুন