আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
ভূমিকম্প হলে অগ্নিকুণ্ড হবে ঢাকা
বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকা সিটি অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হবে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো না ভেঙে ঝুঁকিমুক্ত-নিরাপদ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সেইসঙ্গে যোগ্য পেশাজীবীদের দিয়ে যথাযথ উপায়ে ভবন নির্মাণ হচ্ছে কিনা তা তদারকি করানো এবং অগ্নিনিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। গতকাল আগারগাঁওয়ের আইএবি সেন্টারে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ‘অগ্নিনিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষা : নির্মিত ও নির্মিতব্য ভবনের জন্য করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনগুলোকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না। অগ্নিনিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছে স্থপতি ইনস্টিটিউট। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়-রাজউক এলাকাসহ সারা দেশে স্থপতিদের স্বাক্ষর জাল করে নকশা অনুমোদনের বিষয় মহামারী আকার ধারণ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি নওয়াজিশ মাহবুব। বক্তব্য দেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, মুস্তাফা খালিদ পলাশ, রফিক আজম, ইকবাল হাবিব, এহসান খান ও মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে ঝুঁকিমুক্ত ভবন নির্মাণে রাজউক যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ করেন নগর বিশেষজ্ঞরা। ভবনের ইন্টেরিয়র ডিজাইনে যেসব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয় তা ফায়ার রেটিংসম্পন্ন কিনা তা তদারকি করারও দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ভবন বৈধ বা অবৈধ তা বের করার আগে এসব ভবনে যারা বসবাস করেন তাদের বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ঢাকাতেই ৪০ হাজার ভবন রয়েছে যেগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। অথচ ওইসব ভবনেই লাখ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। তাদের কীভাবে বাঁচানো যায় সেই পথ আগে বের করতে হবে। এজন্য ভবনগুলোতে তিনটি ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলো- সংকেত, নির্গমন ও নির্বাপণ। এসব কাজ আগে করতে হবে। পরে ভবনগুলো বৈধ না অবৈধ তা খুঁজতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে হবে। ঢাকায় বড় ভূমিকম্প হলে পুরো শহর অগ্নিকুন্ডে পরিণত হতে পারে। বড় ভূমিকম্প হলে গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণ ঘটবে ও বিদ্যুতের লাইন থেকে স্পার্ক হয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ৮ বছর আগে মন্ত্রীকে নিয়ে এক মিটিংয়ে গ্যাসের লাইনে অটো সেন্সর বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সচিবালয়ে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্থপতি জালাল আহমেদ বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশেই আগুন লাগে। এর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজধানীসহ মফস্বল শহরের অধিকাংশ ভবনেই নেই অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। আর অধিকাংশ ভবনই নির্মাণের সময় বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে না। তাই ওইসব ভবনে সামান্য কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এর দায় আমরা এড়াতে পারি না। স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, আগে স্থপতির কোনো ক্ষমতাই ছিল না। এখন তাদের কাছে ক্ষমতা আছে। নির্মাণ হচ্ছে এমন ভবনগুলোকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না, কথাটা এমনি ছিল। কিন্তু আগে তা ঘটেনি। এখন ঘটছে। ২০০৬/০৮ সালের আগের ভবনগুলো বেশি অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, যে নকশায় ভবন নির্মাণ হবে, তা যথাযথ আছে কি না প্রতি বছর দেখতে হবে। ১০ বছর, ২০ বছর পর তো তা একই থাকবে না। এখানে যুক্ত রয়েছে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের কাজ। কেননা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সিটি করপোরেশনের। সুনির্দিষ্টভাবে যার যা কাজ তা করতে হবে। স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আমাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে ভবনের নিরাপত্তা ও জীবনের সুরক্ষা অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা শুধু নয়, ঢাকার বাইরেও মফস্বল শহরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে উঠেছে এবং দিনে দিনে বাড়ছে। এটা একটা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। যদি আমরা স্বল্প মেয়াদে কিছু পদক্ষেপ না নেই। স্থপতি এহসান খান বলেন, আমাদের দেশ গঠনের ডাক দিতে হবে। সেখানে সমস্ত পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ শহর কী হবে সেই চিত্র তৈরি করতে হবে। আমরা এখানো তা করতে পারিনি।

অগ্নিনিরাপত্তায় ৯ প্রস্তাব : অগ্নিনিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছে স্থপতি ইনস্টিটিউট। এর মধ্যে আশু করণীয় ৬টি ও দীর্ঘ করণীয় ৩টি হলো, ১. রেট্রোফিটিং এর মাধ্যমে পূর্বনির্মিত ভবনসমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- ভবনের মালিকদের স্ব স্ব ভবনের বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম নিতে হবে এবং অগ্নিনিরাপদ করার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীর নকশা আগামী চার মাসের মধ্যে রাজউককে জমা দিতে হবে। ২. হালনাগাদকৃত বিএনবিসি অতিসত্বর অনুমোদন এবং ভবন নির্মাণে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ-ভবনে জীবন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে জড়িত ফায়ার সার্ভিস, ডেসা, ডেসকো বিএনবিসি এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বা ধারা বা নীতিমালা প্রণয়ন বা প্রয়োগ করতে পারবে না। ৩. ২০০৬ পরবর্তী নির্মিত ভবনের ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। ৪. রাজউকের নগর উন্নয়ন কমিটিকে কার্যকরী ভূমিকায় নিয়ে আসা। ৫. রাজউকের রেগুলেটরি কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা। ৬. ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর ফায়ার রেটিং নিশ্চিতকরণ। দীর্ঘ করণীয়- ১. অগ্নিনিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষা বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা;  ২. অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা; ৩. স্থপতি ও প্রকৌশলীদের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নকশা প্রণয়নে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম নেওয়া।