আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
আবাসন খাতে ২০২০ সালে ৩৩ লাখ কর্মসংস্থান হবে

আবাসন খাত জিডিপিতে ৬.৩১ শতাংশ অবদান রাখছে। ২০১৪ সালে আবাসন খাতে কর্মসংস্থান ছিল ২৮ লাখের মতো। ২০২০ সাল নাগাদ এ খাতে প্রায় ৩৩ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে ‘চ্যালেঞ্জেস অব রিয়েল এস্টেট ইন আরবানাইজেশন অ্যান্ড ডিসেন্ট্রালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে রাজধানী ঢাকার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ওসামা তাসীর। তিনি বলেন, নগরায়ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও শহরগুলো গ্রামের চেয়ে অর্থনীতিতে বেশি ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির ৬৫ শতাংশই আসছে নগর থেকে। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টাস : দ্যা ২০১৮ রিভিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুসারে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নগরে বাস করবে। বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামের চেয়ে বেশি মানুষ বাস করবে নগরে। পৃথিবীর ৩১টি মেগাসিটির মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকা ১১তম। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা পরিণত হয়েছে বিশে^র ২য় বসবাসের অযোগ্য নগরে।

সেমিনারে আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সুপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভারসাম্যপূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ আবাসন খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন করবে। এক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাতের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামীণ পর্যায়ে সেবা সার্ভিস পৌঁছে দিয়ে বেসরকারি আবাসন ব্যবস্থাকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর প্রয়োজন। সেমিনারে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন ব্যবসায়ীদের উচিত এখন মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা। শুধু বিত্তশালীদের কথা না ভেবে দাম সহনীয় পর্যায়ের রেখে আবাসন নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরকার সারা দেশ নিয়ে একটি ডেলটা প্ল্যান করতে যাচ্ছে। এতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ করার সুযোগ আর থাকবে না।’ রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন বলেন, রিহ্যাবের সদস্যরা এ পর্যন্ত ২ লাখ ফ্ল্যাট ও ৭০ হাজার প্লট হস্তান্তর করেছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শহরকে গ্রামে নিয়ে যেতে হলে বিভিন্ন সেবা সার্ভিস গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। আর এ কাজটি ব্যক্তি পর্যায়ে কখনো সম্ভব না। এটি করতে হলে সরকারি উদ্যোগই লাগবে। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা হয়েও রাজউক এখন আবাসন ব্যবসা করে যাচ্ছে। তারা অল্প টাকায় জমি অধিগ্রহণ করে ফ্ল্যাট ব্যবসা করছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উচ্চমূল্যে জমি নিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে চরম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছে।’

সেমিনারে জানানো হয়, রপ্তানিমুখী শিল্পের ৮০ শতাংশই অবস্থিত বৃহত্তর ঢাকায়। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকা- কতটা কেন্দ্রীভূত তার প্রমাণ পাওয়া যায় ব্যাংকের আমানত এবং ঋণের পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ৬১ শতাংশ আসে ঢাকা থেকে এবং ২২ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। অন্যদিকে মোট ঋণের ৬৭ শতাংশ বিতরণ করা হয় ঢাকায় এবং ১৯ শতাংশ বিতরণ করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগে। বিকেন্দ্রীকরণের জন্য বিভিন্ন নীতি সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোগগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

আবাসন খাতের সমস্যা তুলে ধরে এই খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, আবাসন খাতের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো জমি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি। গুলশান, বারিধারাসহ ঢাকার অন্যান্য অঞ্চলে জমির মূল্য গত এক দশকে ২ থেকে ৩ গুণ বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দামও।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর টেকসই নগর ও কমিউনিটি উন্নয়নে নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন আবশ্যক। এ জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণে এবং আবাসন খাতের বিকাশে একটি জাতীয় ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

ডিসিসিআই নেতারা বলেন, ক্ষমতা এবং উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণে শুধু কাগজে নয় বরং সুনির্দিষ্ট নীতি এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণ আর কার্যকর করা সম্ভব। বিকেন্দ্রীকরণ সফল করতে প্রশাসনিক সামর্থ্য ও দক্ষতা বাড়ানো এবং জেলাগুলোতে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা বিকেন্দ্রীকরণকে ত্বরান্বিত করবে। দেশরূপান্তর