আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
রাজউকের এক অঞ্চলে ১৪ হাজার অবৈধ ভবন

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ২-এর আওতাধীন এলাকায় নকশা ছাড়াই অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ১৪ হাজারের বেশি ভবন। এ ছাড়া আরও ২৬ হাজারের বেশি ভবন নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। রাজউকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। রাজউকের দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থার কারণে এভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন খোদ সংস্থাটির কর্মকর্তারাই।

রাজউকের আওতাধীন এলাকা ৮টি জোনে বিভক্ত। এর মধ্যে উত্তরা, গাজীপুরের অংশবিশেষ ও টঙ্গীর অংশ বিশেষসহ ২৯১ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত রাজউকের জোন-২। এ জোনের অথরাইজড অফিসার ২-এর প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলামের দপ্তর থেকে ওই এলাকার কার্যক্রম নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে নকশা অনুমোদন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নকশা ছাড়া ও নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ বন্ধে কয়েক দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

গত মাসে অবসরে যাওয়া প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, রাজউক চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৮টি জোনে জরিপ চালানো হয়। তখন অথরাইজড অফিসার ২-এর আওতাধীন এলাকার একতলার ওপরের ৬৮ হাজারের বেশি ভবন চিহ্নিত করা হয়। তিনি বলেন, রাজউকের কাজ হচ্ছে মনিটরিং করা। যারা নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত- স্থপতি, প্রকৌশলী ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কী হবে সেটি সভা-সেমিনারের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া। এর পাশাপাশি রাজউকের পরির্দশক, প্রধান পরিদর্শক, অথরাইজড অফিসারসহ নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্তদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জোন ২-এর আওতাধীন এলাকায় জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ৬৮ হাজার ৫৬১টি ভবনের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে নির্মিত ভবন ৬৫ হাজার ৮২৫টি। এগুলোর মধ্যে রাজউক অনুমোদিত ভবন ১৯ হাজার ২০১টি। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা অনুমোদিত ভবন ২০ হাজার ৯২০টি।

রাজউকের নকশা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৪টি ভবন। এ ছাড়া ২৬ হাজার ৮১০টি ভবন অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৮২৬টি নকশা অনুমোদনের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৯৮টি আবেদন অনুমোদনক্রমে এবং ২২৮টি আপত্তিক্রমে নিষ্পত্তি করা হয়। ২০১৮ সালে জোন ২-এ নির্মাণাধীন ভবন ছিল ২ হাজার ৭৩৬টি। এর মধ্যে নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণাধীন ভবন ছিল ৭৮০টি।

রাজউকের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে নকশা ছাড়া ও অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ১৯১টি ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১৬টি ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর নোটিশ প্রদান এবং ১১টি ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ২০১৮ সালে ১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৬টি মামলা এবং ২৫টি র‌্যাম্প, ৫১টি পার্কিং ও ১১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৩৪টি আবাসিক ভবনে অনাবাসিক কার্যক্রম বন্ধ ও ১৭টি আবাসিক হোটেল বন্ধসহ ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিবেদনে করা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- ভবনে বসবাসের ক্ষেত্রে অকুপেন্সি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা।

রাজউককে প্রতি মাসে নকশা প্রণয়নকারী ও নির্মাণকাজে জড়িত স্থপতি, প্রকৌশলী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভা, সেমিনার ও কর্মশালার ব্যবস্থা করা। ভবন নির্মাণ ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধি নিয়ে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক, পেশাজীবী প্রতিনিধি, সেবা সংস্থার সঙ্গে সভা-সেমিনার করা। এ ছাড়া নিয়মিত নির্মাণ সাইট পরিদর্শন, অনুমোদনহীন ও নকশা ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান, শুনানি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা।

মন্তব্য