আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
পূর্বাচলে ৬০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট হচ্ছে

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১৭টি হাই-রাইজ অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে মোট ৬০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রতিটি ব্লকে পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ, গভীর নলকূপ, ভবনে সূর্যের আলো যেন আসে ও বৃষ্টির পানির যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ব্লক আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজউকের কাজের টেকনিক্যাল সমীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ চলমান।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে তিনি ওই তথ্য জানান। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের (চট্টগ্রাম-১) সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১), মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২), আনোয়ারুল আশরাফ খান (নরসিংদী-২), সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন (মহিলা আসন-৩৬) ও বেগম ফরিদা খানম (মহিলা আসন-৩৩) বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া কমিটিকে সহায়তার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন-১) মো. আখতার হোসেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠক কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের যে কোনো খালি প্লটে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য বর্জ্রের শ্রেণিভেদ অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক পাঁচটি বিন তৈরির পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো বর্জ্য পুনঃব্যবহারযোগ্য করে সম্পদে পরিণত করেছে অথচ বাংলাদেশে এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি এই দুটি প্রকল্পে ছোট ছোট রিসাইক্লিং মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে এ সব বর্জ্য বাণিজ্যিকভাবে রিসাইক্লিং করার পরামর্শ দেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে সঠিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষ সেখানে গিয়ে বসবাসে আগ্রহী হবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া তিনি পূর্বাচলে প্রকল্পে ওভারহেড ক্যাবল সিস্টেমের বদলে ডিরেক্ট বিউরাইড পদ্ধতিতে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন তৈরির পরামর্শ দেন।

ভবিষ্যতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো কর্তৃক গ্রিন ভবন নির্মাণ এবং ওই প্রকল্পগুলো সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক রাখার অনুশাসন প্রদান করেন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

এ ছাড়া কক্সবাজারে হোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশায় সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ থাকা এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

কমিটির সভাপতি আরও বলেন, উত্তরায় ৬,৬৩৬টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে ওই প্রকল্পে নিরাপত্তাহীনতা এবং স্কুল নির্মাণের বিষয়ে রাজউকের গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি ওই এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ, গোটা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা এবং স্কুল নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন।

সভাপতি বলেন, উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে ‘বি’ এবং ‘সি’ ব্লকে ১০০টি ভবন নির্মাণ করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার জন্য আরও এক কিংবা দুই মাস অপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন।

এ সময় সভাপতির অনুমতিক্রমে রাজউক চেয়ারম্যান শান্তিনগর হতে ঢাকা-মাওয়া রোড (ঝিলমিল) পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কমিটিকে অবহিত করেন।

এরপর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শান্তি নগর হতে ঢাকা-মাওয়া রোড (ঝিলমিল) পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রকল্পগুলোর সমন্বয়ের জন্য সংশিষ্ট প্রধানদের নিয়ে সভা করে কাজ দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী রাজধানীর জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য আশুলিয়ায় ‘সিডনি অপেরা হাউসে’র আদলে ‘ঢাকা অপেরা হাউজ’এবং কেরানীগঞ্জে স্যাটালাইট সিটি নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এসব প্রকল্পের জন্য তুরাগ নদীর পাড় এবং সাভার ও আশুলিয়া এলাকার কিছু অংশ নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এলাকার জলাশয়গুলো অবৈধ দখলদাররা নানাভাবে দখল করে নিচ্ছেন বলে তিনি কমিটিকে অবহিত করেন।

আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট টাউন প্রকল্পের সমীক্ষা যাচাই এবং ডিপিপি প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য দ্রুত একনেকে পাঠানোর পরামর্শ দেন কমিটির সভাপতি। জাগোনিউজ২৪

মন্তব্য