আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
বিল্ডিং নির্মাণে কেমন বালু লাগবে জেনে নিন

নির্মাণ কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বালি, যা সিলিকা থেকে তৈরি হয়। বালু বা স্যান্ড হচ্ছে কংক্রিট এর একটি উপাদান। এছাড়া প্লাস্টার এবং ইটের গাথুনির কাজেও বালুর প্রয়োজন হয়। বালু হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান। বালুকে ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় মুলত ফাইন এগ্রিগেট বলা হয়ে থাকে। এর মুল কাজ হচ্ছে পাথর বা খোয়া এবং সিমেন্টর মধ্যে শক্ত বন্ডিং করার সময় ফাকাস্থান পুরন করা। মুলত কংক্রিট এর গ্যাপ বা ফিলআপ করাই এর কাজ। আসুন জানি বালু সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপুর্ন খুটিনাটি বিষয়াদি।

বালু:- বালু বলতে আমরা বুঝি নদি বা সাগরে পাড়ে যেটা থাকে সেটা। কিন্তু বালুর মধ্যে অনেক প্রকারভেদ আছে। আছে বালুর বিভিন্ন সাইজ। ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষায় বালুর সাইজ বের করাকে ফাইননেস বলা হয়। বিভিন্ন এলাকার বালু বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। আর এই আকার এর উপর এর ব্যবহার নির্ভর করে। এই সাইজের বিষয়টা পরিমাপের একক হচ্ছে FM। ইংরেজি পুরো ফর্ম হচ্ছে Fineness Modulus। মনে রাখবেন আপনার কংক্রিট এর শক্তিমত্ত অনেকটা নির্ভর করে বালির এই এফএম এর উপরে। এফএম সাধারনত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বের করা হয়। বিশেষ ধরনের চালনি বা ছাকুনি ব্যাবহার করে বালিকে ছাকা হয়। একটার উপরে একটা চালূনি বা ছাকুনি রেখে এটা করা হয়। প্রতিটা ছাকুনির ছিদ্রের সাইজ কিছুটা করে ছোট হতে থাকে এবং প্রতিটা ছাকুনির একটা করে নম্বর থাকে। যে ছাকুনিতে এসে বেশিরভাগ বালি আটকে যায় সেই ছাকুনির সাইজ এর সাথে উক্ত বালির ওজনকে ধরে একটা সূত্রের সাহায্যে বের করা হয় সেই বালির FM।
বালিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়

• পিট বালি
• নদীর বালি
• সমুদ্রের বালি

পিট বালি
মাটিতে গর্ত করে এই প্রকার বালি পাওয়া যায়। যা মসৃণ, কোণাকার এবং ক্ষতিকারক লবণ থেকে মুক্ত থাকে। এই প্রকার বালি সাধারণত মর্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

নদীর বালি
এই প্রকার বালি নদীর উপকূলে পাওয়া যায়। যা চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। এটা পিট বালি অপেক্ষা সূক্ষ্ম তাই প্লাষ্টারিং এর কাজ এই বালি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সমুদ্র বালি
এই প্রকার বালি সমুদ্রের উপকূলে পাওয়া যায়। যা নদীর বালির মত চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। তবে এই প্রকার বালিতে ক্ষতিকারক লবণ থাকে।

মোটা দানার বালি
এই প্রকার বালির দানা তুলনামূলক একটু বড় আকৃতির হয় তাই নির্মাণ কাজে ঢালাইয়ের সময় খুবই উপযোগী। কংক্রিট তৈরিতে সিলেট বালি সমান থাকে।
বালি ব্যবহারে সতর্কীকরণ

বালির সঙ্গে কোন প্রকার ময়লা, কাদামাটি থাকতে পারবে না। লবণাক্ত বালি ব্যবহার করা যাবে না এবং নির্মাণ কাজের পূর্বে বালি ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে যেন বালির সালে সংযুক্ত কাদা, লবণ, ময়লা, আগাছা, ডালপালা, নুড়ি বের হয়ে যায়।
বালি পরীক্ষা

বালির গুণাবলী পরীক্ষার জন্য নিম্নলিখিতপরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন
• কিছু বালি দুআঙ্গুলের ফাঁকে নিয়ে ঘষা দিতে হবে, যদি আঙ্গুলের সাথে ধুলা জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে, তবে বুঝতে হবে বালির সাথে ধুলা রয়েছে।
• মুখ নিয়েও বালি পরীক্ষা করা যায়। একটু বালি মুখে নিয়ে বোঝা যাবে এর মাঝে লবণ জাতীয় পদার্থ আছে কিনা।
• একটি পরিষ্কার কাঁচের গ্লাসে পানি নিয়ে তার মাঝে কিছু বালি ছেড়ে দিতে হবে এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। যদি বালিতে ধুলা থাকে তবে তার স্তর বালির উপরে হবে।
• কিছু পরিমাণ কষ্কিক সোডা ৩% একটি বোতলে নিয়ে তার সাথে অল্প কিছু বালি যোগ করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে এবং কিছুক্ষণ ঝাকাতে হবে এবং ২৪ ঘন্টা ঐ অবস্থায় রেখে দিতে হবে। যদি বোতলে রক্ষিত দ্রব্যের রং পরিবর্তন হয়ে বাদামী হয়, তবে বুঝতে হবে বালিতে রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান।
• বালু তীক্ষ্ম নজর দিয়ে দেখলে যদি এতে পাথর, কয়লার টুকরা বা অন্য কোন নোংরা থাকে তাহলে ব্যবহারে না নেওয়াই ভালো। আরেকটা উপায় হল, একটা কাঁচের গ্লাসে আধা গ্লাস বালু নিয়ে বাকিটা পানি দিয়ে ভরে দিন এবং একটা চামচ দিয়ে ভাল করে নেড়ে নিন। বালুতে নোংরা থাকলে পানির রং ময়লা বা ঘোলা হয়ে যাবে। বালুটা নীচে বসে যাওয়ার পর দেখুন যদি বালুর ওপর মাটির স্তর বেশী মোটা হয় তাহলে এ বালু ব্যবহার করার দরকার নেই। যদি ভুল ক্রমে এমন বালু এসে যায় এবং পরীক্ষার পরে ব্যবহারযোগ্য মনে না হয় তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই, এমন বালুকে পরিস্কার করারও উপায় আছে।
• বালুকে ধুয়ে পরিস্কার করা যায়: বালুর গাদায় পানি ঢেলে দিন তাতে করে ময়লা মাটি নীচে বসে যাবে। এবার কোদাল দিয়ে বালুটাকে ভাল করে মিশিয়ে নিন তারপর চালনি দিয়ে ছেঁকে নিন। বালু পরিস্কার হয়ে যাবে।
• ভেজাল বালু ব্যবহারে অসুবিদা হতে পারে: শ্রমিকেরা মশলাতে বেশী পানি মেশানো পছন্দ করে। যদি প্রথম থেকেই বালুতে পানি বেশী থাকে তাহলে, সেই বালু ব্যবহারে নির্মাণ কমজোর হতে পারে। তাই যদি দেখেন বালু ভেজা তবে ঠিকাদারকে বলবেন ইঞ্জিনিয়ার এর পরামর্শ মতে পানি মেশাতে।

প্রচলিত ভাবে বালি তিন প্রকার
• ভিটি বালি: ভিটি বালু-র এফ এম ০.৫ থেকে ০.৭। ভরাট কাজে ব্যবহৃত হয়।এটা হচ্ছে বালুর কোয়ালিটির মধ্যে সবচেয়ে নিম্নতম। মুলত এই বালুর নির্দিস্ট কোন সাইজ বা কোন FM থাকে না। ময়লা এবং মাটি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে এবং কিছুটা কালো বর্নের হয়ে থাকে। এই বালিটি প্রধানত ব্যাবহার করা হয় বাড়ির গ্রেড বীম এবং ফাউন্ডেশন এর ফিলিং এর কাজে। প্রায় প্রতিটি বাড়িই কিছুনা কিছু উ্চু করা হয়। এই উচু করার কাজে এই ভিটি বালু ব্যাবহার করা হয়। এগুলো প্রতি গাড়ি হিসবেে বিক্রি হয়ে থাকে। চেস্টা করবেন ছোট গাড়িতে না নেয়ার জন্য। বড় ডাম্প ট্রাক ব্যাবহার করুন। এতে বেশ ভালোই আর্থিক সাশ্রয় হবে।

• লোকাল বালি: এর এফ এম ১.২ থেকে ১.৮। গাঁথুনি, প্লাস্টারিং এর কাজে
ব্যবহৃত হয়।এটা মুলত ফ্রেস সাদা বালু। এই বালিটি লাগে মুলত ঢালাই এর কাজে। সাধারন লাল বালু বা সিলেট বালুর সাথে মিশ্রিত করেই ঢালাই করা হয়। বাজারে এই বালির কথা বলে অনেকেই অনেক ধরনের বালু সাপ্লাই দিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে খুব কম সাপ্লাইয়ারই আসল বালূটি দিয়ে থাকে। সাধারনত এই বালুটি সম্পুর্ন প্রাকৃতিক ভাবে কালেকশন করা হয়। তাই ঠিক কোথা থেকে বালুটি কালকশন হচ্ছে সেটা খুবই গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয়। তাই বালু কেনার আগে জেনে নিন কোন এলাকার বালু কিনছেন। সাধারনত ঢাকার মধ্যে ভুয়াপুরের বালু সবচেয়ে উত্তম।

• মোটা বালি: মোটা বালু সিলেটে অধিক পাওয়া যায়। এর এফ এম ২.৩ থেকে ২.৮। ঢালাই এর কাজে ব্যবহৃত হয়। এই বালুটি লাল বালু বলার কারন হচ্ছে এর রঙ লাল। এবং এটির মুল সাপ্লাইটা আসে সিলেট থেকে। সিলেটের ভোলাগঞ্জ, বিসনাকান্দি সহ বেশ কিছু এলাকায় এই বালু বেশ ভালো পাওয়া যায়। এছারা ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই বালুটি পাওযা যায়। কেনার সময় বড় গাড়ির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন। কারন লোকালি এই বালিটির বেশ খারাপ কিছু কোয়ালিটির বালি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে মরা পাথর এরগুরো সহ কাদা মাটি সহ বালি।

গোলাকার বালু অপেক্ষা কোণাকার বালু ভাল । ঢালাইয়ের কাজে মোটা বালুই ভাল। বালুকে বলা হয় ফাইন এগ্রিগেট। বালু পরিস্কার ও কাদা মুক্ত হওয়া উচিত।

মন্তব্য