আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
বাড়ি ফ্ল্যাট গাড়ি বীমাভুক্ত করতে হবে

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ২৮টি বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। অন্যথায় কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এক দেশে দুই আইন হতে পারে না। কোনো বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে থাকবে, কেউ বাইরে থাকবে এটা হতে পারে না। প্রত্যেকটি খাত ও উপাদানকে বীমার আওতায় আনতে হবে। বীমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে এলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।

যেসব বাড়ি, ফ্ল্যাট, অফিস ভবন ও গাড়ি এখনও বীমার আওতায় আনা হয়নি সেগুলোকে অবশ্যই বীমাভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক ভবন ও অফিসকে শতভাগ বীমার আওতায় আসতে হবে। বীমার কিস্তি একটি সক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে। যাতে প্রত্যেকে বীমার আওতায় আসতে পারে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, আইডিআরএ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী এবং বীমা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন।

দেশে জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা মিলিয়ে ৭৫টি কোম্পানি রয়েছে। ৪৭টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বাকি ২৮টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বীমা খাতকে শক্তিশালী করতে অন্য সব খাতকে এর আওতায় আনা হবে। বিদেশে ব্যক্তি ও সম্পদের নয়, কুকুর-বিড়ালেরও বীমা আছে।

এতদিন যেসব কোম্পানি আসতে পারেনি আগামী ৩ মাসের মধ্যে কি আসতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩ মাস সময় দিয়েছি। ৩ মাস একদিন বা দু’দিন লাগবে। আগে শুরু করতে হবে। ধরে নেন আজ থেকে শুরু হল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির দুটি মৌলিক এলাকা হচ্ছে বীমা খাত ও পুঁজিবাজার। বীমা খাত সম্পর্কে অপপ্রচার হয়েছে এবং আস্থার সংকট ছিল। সেখান থেকে বের হয়ে আসছে। এটি একটি ভালো দিক। ফলে বীমা খাত আরও ভালো করতে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়ার সময় পুঁজিবাজারে আসার শর্ত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেকেই আসেনি। আজকের বৈঠকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআর) চেয়ারম্যান ও বীমা কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশ্বস্ত করেছেন, প্রতিটি কোম্পানি আগামীতে পুঁজিবাজারে আসবে।

পুঁজি বাজারে না এলে প্রাথমিকভাবে লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হবে। এর পরও তারা যদি না আসে এবং উন্নতি করতে না পারে দ্বিতীয় পর্যায়ে ওইসব কোম্পানিকে মার্জার করা হবে। সেটিও করতে না পারলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

সরকার এ ক্ষেত্রে দেখবে যে উদ্দেশ্যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে সেটি পরিপূরণ হয়েছে কিনা। সেটি না হলে তা বাতিল করা হবে। আশা করি এ খাতটিকে সবাই ভালোভাবে পরিচালনা করবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ খাতে হিউম্যান ক্যাপিটাল বিল্ডআপ করতে হবে।

সাধারণ শিক্ষায় বীমা নিয়ে কোনো পড়ার সুযোগ নেই। বিদেশে পাঠিয়ে এ খাতের ওপর পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় আগামী পহেলা মার্চ বীমা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এর আগে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, এ খাতে তারল্য ও আস্থার সংকট ছিল। এটি দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান দশমিক ৫৫।

বীমা খাতে নতুন প্রডাক্ট ও সেবার মাধ্যমে এর অবদান বাড়ানো হবে বলে বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। কিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে না গিয়ে জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছে।

যা এখন থেকে আর হবে না। এসব কোম্পানিকে তিন মাসের সময় দেয়া হবে। এতে অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নন-লাইফ বীমার ক্ষেত্রে একটি বেআইনি চর্চা ছিল। সেটি হচ্ছে বীমার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেয়া হতো। জানতে পারছি না এ টাকা কোথায় যায়।

এটি বন্ধ করা হবে। ১৫ ভাগের বেশি কমিশন নেয়া যাবে না। এটি আইনেও আছে। আগে বহুবার এ পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এবার হবে।

এছাড়া একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে বেসিক পলিসির ডাটাবেজ নেই। এটি করতে পারলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। ডাটাবেজে গ্রাহকের নাম ও পলিসি নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য থাকবে।

এতে গ্রাহক ও বীমা প্রতিষ্ঠান উভয়ে বুঝতে পারবে একজন গ্রাহকের পলিসি মেয়াদ শেষ হবে কবে। বর্তমান পদ্ধতিতে বীমা পলিসি মেচিউরিটি হওয়ার পরও টাকা পাচ্ছে না।

সভায় জানানো হয়, বীমা খাতে যেসব সমস্যা বিরাজ করছে সেগুলো হচ্ছে- বীমা পণ্যের স্বল্পতা, লিটারেসির ব্যবস্থা না থাকা, দাবি যথাসময়ে নিষ্পত্তি না করা।

এ ছাড়া সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ছাড়া পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠান না থাকা, বীমা কোম্পানিগুলোতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের অভাব, বেনকাস্যুারেন্স বিতরণ চ্যানেল পদ্ধতিটি না থাকা, জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো একচ্যুয়ারির অভাব এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অপর্যাপ্ততা। যুগান্তর

মন্তব্য