আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
সরকারী কর্মচারীদের জন্য মিরপুরে হচ্ছে ১২০০ ফ্ল্যাট

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট দূর করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে নগরীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় তৈরি করা হবে ১ হাজার ২০০টি ফ্ল্যাট।

শুধু তাই নয়, যারা এসব ফ্ল্যাটে থাকবেন তাদের জন্য ক্লাব, প্রাইমারি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও মন্দিরসহ নানা সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

এজন্য ‘ঢাকাস্থ মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত অধিদফতর।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু যে আবাসন সংকট সমাধান হবে তাই নয়, সরকারি জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি করা যাবে।

সেই সঙ্গে উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর আবাসনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে উত্তম সেবা আদায় নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস একনেকের জন্য তৈরি সার-সংক্ষেপে কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা হ্রাস পাবে। এ বিবেচনায় এটি অনুমোদনযোগ্য।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট প্রকল্প উদ্বোধনের সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকুরেদের প্রতি অনেক মানবিক। আমরা তার নির্দেশনায় আবাসক সংকট দূর করতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় বাড়িভাড়া দিতে।

তাই আমরা চেষ্টা করছি ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসন সংকট মোকাবেলার।

প্রকল্প প্রস্তাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন।

তাদের বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট রয়েছে ১৩ হাজার ৫২টি, যা মোট চাহিদার ৮ ভাগ। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি বাসা না পেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি বাসায় থাকতে হচ্ছে।

এতে তাদের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আবাসন সুবিধা বর্তমানের ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার অনুশাসন দিয়েছিলেন।

এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুবিধাসহ বহুতল ভবন নির্মাণেরও নির্দেশ দেন।

এসব নির্দেশনা মেনে বিদ্যমান আবাসন সংকট নিরসনে গণপূর্ত অধিদফতরের আওতায় থাকা বিভিন্ন খালি জমিতে এবং আবাসন এলাকায় জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে মিরপুর-১ নং সেকশনের দারুসছালাম রোডের পূর্ব পাশ্বে এ-টাইপ কলোনি, তালতলা কলোনি, ওয়ার্কআপ পূর্বপাশ কলোনি এবং ডি টাইপ কলোনির ৬১টি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ১৮ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ২৫টি ভবন নির্মাণের জন্য এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতদিন এসব ভবনে যারা বসবাস করতেন তারা নতুন ফ্ল্যাট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পাবেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হলে ৩০ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। আবাসিক ভবনের বাইরে দুটি চারতলাবিশিষ্ট সার্ভিস ভবন, একটি তিনতলাবিশিষ্ট বোর্ট ক্লাব, একটি তিনতলাবিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ছয়তলা কমিউনিটি ব্লক নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- বেজমেন্টসহ ১৭টি ৮০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটবিশিষ্ট ১৩ তলা ভবন নির্মাণ। এগুলোতে ফ্ল্যাট থাকবে ৮১৬টি।

এছাড়া বেজমেন্টসহ ৮টি এক হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটবিশিষ্ট ১৩ তলার ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ফ্ল্যাট থাকবে ৩৮৪টি।

একটি ছয়তলা মসজিদ, একটি তিনতলা মন্দির, একটি চারতলা মাল্টিপারপাস ভবন, চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন, ভূগর্ভস্থ জলাধার, বিদ্যমান দুটি জলাশয় উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ, ফুটপাত, রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও লিফটসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য