আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “দেশে আইন, নীতি ও নিয়মের ঘাটতি নেই। বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে দরকার আইনের কঠোর প্রয়োগ। আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজউকের আইন আছে, পরিবেশের আইন আছে, যানবাহন আইন আছে। কিন্তু আমরা এ আইন অনুসরণ করছি না। আমাদের যথাযথভাবে আইন অনুসরণ করতে হবে”। আজ শনিবার (১২ অক্টোবর ২০১৯) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দৈনিক কালের কন্ঠের সম্মেলন কক্ষে কালের কন্ঠ আয়োজিত ‘বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অতি মুনাফা লাভের প্রবণতা থেকে আইন না মানার প্রবণতা তৈরী হয়েছে। এটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা। এফআর টাওয়ারের ঘটনার পর ঢাকার বহুতল ভবন পরিদর্শন করে ১৮১৮টি বহুতল ভবন পাওয়া গেছে, যেখানে কোনো আইনের অনুসরণ করা হয় নি। এ ভবনের মালিকগণ অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তারা কিন্তু আইন জেনেও তা মানেন নি”। দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, “এফ আর টাওয়ারের ঘটনায় ৬২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘটনায় একটি পত্রিকার সংবাদের উপর ভিত্তি করে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৩০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রাজউকের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বন্টন করেছি। সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাজ চূড়ান্ত করার আগে সরকারের স্বার্থে টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা এরকম অনেক দুঃসাহসী কার্যক্রম গ্রহণ করছি। কিন্তু বিস্তৃত পরিসরের সব পরিবর্তন রাতারাতি করা বাস্তবসম্মত নয়”।

পুরনো ঢাকার পুনঃউন্নয়ন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গাপুর ও জাপান পুরনো সংস্কৃতি রক্ষা করে পুরনো শহরকে পুনঃউন্নয়নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন শহর গড়ে তুলেছে। পুরনো ঢাকার ভবনগুলো ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে রয়েছে। পুরনো ঢাকার জনগণের রক্ষণশীলতা ও মমত্বের জায়গার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পুরনো ঢাকার পুনঃউন্নয়ন কাজে নিশ্চয়ই সেখানকার জনগণ আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমরা সেখানকার বিভিন্ন কমিউনিটির সাথে কথা বলেছি। আশা করছি পুনঃউন্নয়ন কাজ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো”। নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে মন্ত্রী যোগ করেন, “সিটি কর্পোরেশনকে তাদের অর্জিত আয় থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় সংকুলান করতে হবে। এ খাতে সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আমি সরকারের কাছে তুলে ধরবো। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন সংস্থাগুলো এখন নিজ উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছে। রাজউকের পূর্বাচল, ঝিলমিল, উত্তরা ৩য় পর্ব, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুরের স্বপ্ননগরসহ প্রতিটি প্রকল্পে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংস্থান রাখছি। প্রকল্পের মধ্যেই আমার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিষ্পত্তি করবো”।

তিনি আরো বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনসহ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের বিষয়ে বারবার বলছেন। তিনি শহরে পর্যাপ্ত জলাধার রাখার কথা বলেন, খোলা জায়গা, সবুজ জায়গা রাখার কথা বলেন। আমাদের যার যার জায়গা থেকে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশসম্মতভাবে সবকিছু করতে চান। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন গ্রামেও কৃষি জমি নষ্ট করে ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করা যাবে না। দেশব্যাপী একটি মাস্টার প্ল্যানের আওতায় পরিকল্পিতভাবে সকল কাজ সম্পন্ন করতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংস্থাগুলো সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে”। মন্ত্রী বলেন, “ড্যাপের অসামঞ্জস্য দূর করার জন্য আমরা বারবার বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। বিল্ডিং কোড গেজেট আকারে প্রকাশ হচ্ছে অতি শীঘ্রই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন চান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, ভবন পরিবেশ সম্মত কী না, ভবন পারিপার্শ্বিকতা রক্ষা করে কী না, ভবনের সূদূরপ্রসারী কোন প্রভাব আছে কী না। নাগরিকদের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদশীল। সবাই সরকারের শুভ উদ্যোগকে সহায়তা করুন”। মন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে আলোচনায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে লিখিত পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানান।

দৈনিক কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম, কালের কন্ঠের ভারপ্র্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বিএলডিএ এর মহাসচিব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দীন, রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ হেলালী, গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহউদ্দিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী মোঃ সাইফুন নেওয়াজ, রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউ অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ।

মন্তব্য