আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ঢাকার আশপাশের ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার আশপাশের অর্থাৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ঢাকার সকল রাস্তা, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারে জমে থাকা ময়লা, ধুলাবালি অপসারণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দিনে কমপক্ষে দুইবার পানি ছিটাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা গাছ ও ভবনের দেয়ালেও পানি ছেটাতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে।

এছাড়া এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু ।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত (২১ জানুয়ারি) প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ২৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে পরের দিন ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ ঢাকা মহানগরীতে ‘ধুলাবালিপ্রবণ’ এলাকাগুলোতে সকাল ও বিকেলে দু’বার পানি ছেটাতে ঢাকার দুই সিটিকে নির্দেশ দেন আদালত। পরে পানি ছেটানো হয়েছে কি না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তলবও করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ৫ মে তাদের আদালতে ভর্ৎসনাও করা হয়।

আদেশের পর অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই মুহূর্তে ধুলাবালি বন্ধে জরুরি নির্দেশনা দরকার। এজন্য আবেদন করা হয়েছে। আদালত চারদফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে ঢাকার বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ কারণে হাইকোর্ট ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশের জেলায় পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সকল ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে বলে দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। এই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বায়ুদূষণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ঢাকার যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে সেসব এলাকা (কাজের স্থান) ঘেরাও করে কাজ করা এবং উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের কারণে ধুলাবালি প্রবণ এলাকায় দিনে দুইবার পানি ছেটাতে ঢাকার দুই সিটি মেয়র ও নির্বাহীদের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে, রুল জারি করেন আদালত। জারি করা এই রুল এখন বিচারাধীন। এরই ধারাবাহিকতায় বায়ু দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করা হয়।

এর পর গত ২৪ নভেম্বর ও ২৬ নভেম্বর এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে এমন সব আদেশ দেন আদালত।

শুনানিতে আজ অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ওয়াসা রাস্তা কেটে ফেলে রাখে। ফলে ধুলাবালি রাস্তার পাশে জমা হয়। যখন গাড়ি চলে তখন এই ধুলাবালি বাতাসে ওড়ে। এছাড়া ড্রেন পরিষ্কার করে ময়লা না সরিয়ে রাস্তার ওপরই ফেলে রাখা হয়। তা শুকিয়ে আবার ড্রেনে যায় ও বাতাস দূষিত করে। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই এই ধূলাবালি সরাতে আদালতের নির্দেশনা দরকার।

তিনি বলেন, ওয়াসা বা তিতাস বা বিভিন্ন সংস্থা রাজধানীতে যখন কাজ ধরে তখন দেখা যায়, একসযোগে সব জায়গায় খোঁড়াখুড়ি করা হয়। এরপর তারা ফেলে রাখে। দীর্ঘদিন এই খোঁড়াখুড়ি চলে। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শেষ করে অন্য এলাকায় যাতে খোঁড়াখুড়ি করে সেজন্য নির্দেশনা দরকার। কারণ উন্নয়নের কথা বলে রাষ্ট্র আমাদের হত্যা করতে পারে না।

মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্ট এরআগে এক আদেশে কমপক্ষে দুইবার পানি ছেটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এই নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। কখনও কখনও অভিযোগ করা হচ্ছে ওয়াসা ঠিক মতো পানি দেয় না। তাই ওয়াসা যাতে পানি দেয় সেজন্য নির্দেশনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার কথা। কিন্তু তা ঠিকমতো হচ্ছে না। এজন্য আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

আইনজীবীরা জানান, কী কারণে রাজধানীর বাতাস দূষিত হচ্ছে এবং বায়ু দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করতে পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কমিটিতে বুয়েটের এক্সপার্ট, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াসা, ডেসকোসহ সকল পরিসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের একজন করে প্রতিনিধি, প্রয়োজন হলে একজন বিশেষজ্ঞ রাখতে বলা হয়েছে। এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার সকল রাস্তা, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারে জমে থাকা ময়লা, ধূলাবালি অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দিনে কমপক্ষে দুইবার পানি ছেটাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা গাছ ও ভবনের দেয়ালেও পানি ছেটাতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য