আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
৯ বছরেও শেষ হলো না একটা হলের নির্মাণকাজ

২০১১ সালে শুরু হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বহু প্রতীক্ষিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ। কিন্তু গত ৯ বছরেও শেষ হয়নি এ আবাসিক হলটির কাজ। ৩৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। তবে ইতোমধ্যে কাজ শেষ করার সময় পিছিয়েছে চার দফা। এ হলটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সর্বশেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের জুনে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ছাত্রীদের আবাসন সংকটের ভোগান্তি এখনই কাটছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জানেন না এর নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে! তবে নির্মাণকাজ শেষ না হলেও ইতোমধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৬ তলা ভবনটির অবকাঠামো কাজ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ পানির লাইন, স্যানিটেশন, ইলেকট্রনিকসহ অনেক কাজ এখনও বাকি। এদিকে চারটি লিফটের নির্মাণকাজে এখনও হাত দেয়নি তারা। তবে এত কাজ সম্পন্ন করতে মাত্র ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের মধ্যেও কাজ করার কোনো তাড়া নেই। কেউ ঘুমাচ্ছেন, আবার অনেকে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, পুরো ভবনে টাইলস ও রঙের কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ ৫০ শতাংশ এখনও বাকি।

কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০ তলা ভিত্তির ওপর ১৬ তলা উচ্চতার এ আবাসিক হলটি নির্মাণব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৩৬ মাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল দফতরকে। ১১১টি কক্ষের হলটিতে একটি লাইব্রেরি, একটি ক্যান্টিন, একটি ডাইনিং, ১১২টি টয়লেট, ১২৮টি গোসলখানা এবং চারটি লিফট স্থাপন করার কথা রয়েছে। তবে স্যানিটেশন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অনেক কাজ এখনও বাকি।

এ প্রকল্পের প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন করা হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ফের ২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তারপরও কাজ শেষ না হওয়ায় সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘ সময়ও কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বললে আমরা তা করে দিতে পারব। কিন্তু সাবস্টেশন, গ্যাস, পানির ব্যবস্থা না হলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে হলে উঠবে? শিক্ষার্থীরা হলে ওঠার পর এসব কাজ করা সম্ভব নয়। এসব কাজ তো আমাদের হাতে নেই। ওই কাজ শুরু হলে আমরাও দ্রুত শেষ করে দেব।

তিনি আরও বলেন, কনস্ট্রাকশনের জন্য যে জায়গার প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ জায়গার অভাবে আমাদের কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। টেন্ডার-পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ ডিজাইন পরিবর্তন করেছে। তাতেও অনেক সময় লেগেছে। টেন্ডার মূল্য থেকে কনস্ট্রাকশন মূল্য বেশি হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে বাড়তি বাজেট অনুমোদন আনতেও সময় লেগেছে। এসব কারণেই মূলত এত সময় লেগেছে।

গত ডিসেম্বরে নির্মাণাধীন ওই হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম। তিনি এ বিষয়ে বলেন, আমরা খুব দ্রুত কনস্ট্রাকশন কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু ঠিকাদারি কোম্পানি তা আমলে নিচ্ছে না। আমাকে প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও এখানে কোনো কাজ না করতে পেরে খুবই হতাশ। কাজের শুরু থেকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনিটরিং টিম কাজ করত তাহলে হয়তো এত দীর্ঘ সময় লাগত না।

এ বিষয়ে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার বলেন, মূলত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে। সাবস্টেশন, লিফটসহ অন্যান্য কাজেরও টেন্ডার হয়েছে। আমরা বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে, রাত-দিন কাজ করে সবকিছু দ্রুত শেষ করব। জাগোনিউজ

মন্তব্য