আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
করোনাকালে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাড়ছে মালিক ভাড়টিয়া দ্বন্দ্ব

প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। এর ৯০ শতাংশ ভাড়া বাসায় থাকেন। মাস শেষে  আয়ের বড় অংশ তোলে দিতে হয় বাড়িওয়ালার হাতে। এখন চলছে করোনকাল। নানা সঙ্কট। তীব্র সঙ্কটে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তরা। বাসা ভাড় নিয়ে চলছে দেন দরবার। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের এই লকডাউনে বন্ধ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। যাদের চাকরি আছে তারাও বেতন পাচ্ছেন না ঠিকমতো। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। নিম্নবিত্তরা সাহায্য সহযোগিতা পেলেও মধ্য বিত্তরা নিরবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। গত দেড় মাস ধরে চলছে এই কঠিন অবস্থা। বাসা ভাড়া দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের অনেকেই।

বাসা ভাড়া দিতে না পারায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকার অমানবিক সেই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র। গত ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে দুই মাসের শিশুসহ তিন সন্তান ও তাদের বাবা-মাকে বাসা থেকে বের করে দেন বাড়ির মালিক।  এমনকি ভাড়াটেকে মারধরও করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বাড়ির মালিক নূর আক্তার শম্পার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় ২১শে এপ্রিল রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে শম্পাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বাড়িওয়ালা-ভাড়াটের বাসা ভাড়া সংক্রান্ত এই দ্বন্দ্ব করোনাকালে বেড়েছে। এক্ষেত্রে থানায় লিখত অভিযোগ জমা পড়ছে। অনেক সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছে পুলিশ।

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পরিবারকে বের করে দিয়েছে মালিক। মার্চের ২৫ তারিখের ঘটনা এটি। অভিযোগ স্বামী দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। তিনি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারেন। যদি ওই প্রবাসী আক্রান্ত কি-না তাও নিশ্চিত না। এই শঙ্কা থেকেই পরিবারটিকে জোর করে বের করে দেয়া হয়। শর্ত দেয়া হয় করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে বাসায় থাকতে পারবেন। তারা আশ্রয় নেন এক আত্মীয়ের বাসায়। বাসায় না থাকলেও সম্প্রতি বারবার ফোন করে ভাড়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন মালিক। ভাড়াটে সময় চাচ্ছেন।
শনিবার যাত্রাবাড়ী থানায় এরকম একটি অভিযোগ নিয়ে যান এক ভাড়াটে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, বিবির বাগিচার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন ওই শ্রমিক। ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন মালিক। গত মাসের ভাড়া দিতে পারছেন না। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে তাদের মধ্যে। ভাড়াটে ওই ব্যক্তি সময় চেয়েছেন। কিন্তু মালিক কিছুতেই সময় দিবেন না। বাসা থেকে জোর করে বের করে দিতে চেষ্টা করেন। অসহায় ওই ব্যক্তি থানায় গিয়ে বিষয়টি অবগত করেন। এসময় ওসিকে জানান, দেড় মাস ধরে কাজ নেই। অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় খাচ্ছেন। এই অবস্থায় বাসা ভাড়া দেয়া সম্ভব না। আসবাবপত্র রেখে বাসা ছাড়তে বলছে মালিক। পরে ওই বাসার মালিককে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেন ওসি।

ভাড়া না পেয়ে পানি ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে ২রা মে ধানমন্ডির শংকরে নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেলে। এতে বিপাকে পড়ে ছাত্রীরা। অভিযোগ পেয়ে বাড়িওয়ালাকে বুঝিয়ে বিদ্যুৎ-পানির লাইন পুনরায় চালু করে দেয় পুলিশ। উত্তরা ১১ ও ১৪ নম্বর সেক্টরে ভাড়া না পেয়ে দুই ভাড়াটেকে বের করে দিচ্ছিলেন মালিক। এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ করেন ভাড়াটে। পুলিশের হস্তক্ষেপে ভাড়ার টাকা পরিশোধের সময় দেয়া হয়েছে ভাড়াটেদের। একইভাবে খিলগাঁও থানায় অভিযোগ জমা হয়েছে তিনটি। ধানমন্ডি থানায় একটি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সূত্রে জানা গেছে, কবাসা ভাড়া দিতে দেরি হলে রাজধানীর ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাড়িওয়ালা ভাড়াটেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ঢাকায় যারা থাকেন তাদেও ৯০ শতাংশেরই ঢাকায় বাড়ি নেই। যে কারণে বাড়িওয়ালারা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ান, আদায় করেন। আইন থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তিই হয় না। মানবজমিন

মন্তব্য