আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
পরিকল্পিত আবাসনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা আমাদের মহান সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভব সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং করছে। দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা ২১২০ কিলোক্যালরি নিশ্চিত করতে যেমন সরকার খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার প্রদান করছে, তেমনি চিকিৎসা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবছর বিনিয়োগ করছে বিশাল অংকের টাকা।

একইসাথে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ীমূল্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেও সরকার প্রতিবছর বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে আবাসন খাতে। শহর ও শহরতলীতে নাগরিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তর/ সংস্থাসমূহ। এর অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা “সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন” এবং টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্য সামনে রেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এ মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কছু খণ্ডিত চিত্র অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা যেতে পারে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সারাদেশে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, হালনাগাদকরণ ও সমন্বয় করে যাচ্ছে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা “গ্রামের মানুষকে শহরের সুবিধা প্রদান করা” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এ মন্ত্রণালয়।

রাজধানী ঢাকার বিদ্যমান ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) রিভিউপুর্বক আরো বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী করে ২০১৬-২০৩৫ মেয়াদি একটি পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। গণশুনানী করে এটি শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে। রাজশাহী মহানগরীর আওতাভুক্ত ৩৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ সংবেদনশীল মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ প্রায় সমাপ্ত। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৩১৮.২৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার মাস্টারপ্ল্যান ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাই এর ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার মাস্টারপ্লান প্রণয়নের কাজ সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে।

পটুয়াখালী ও বরগুনার মোট ৭টি উপজেলার ৩৩২২.৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন চলমান রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ে “নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। জাইকার সহযোগিতায় আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব ইটের বিকল্প ব্লক তৈরির জন্য Verification servery with the private sector for Disseminating Japanese Technologies for Non-fired Solidification অফ Brick Manufacturing process শীর্ষক প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের মধ্যে ইটের ব্যবহার শূণ্যের কোঠায় হ্রাসের সরকারি নীতি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিবেশবান্ধব Autoclave Aerated Concrete Panel তৈরির জন্য Pilot plant তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা ও যানযট নিরসন এবং সৌন্দর্য বর্ধননের লক্ষ্যে লেক উন্নয়ন, খাল খনন, পার্ক/উদ্যান স্থাপন ও উন্নয়ন, ফ্লাইওভার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীচে উল্লেখ করা হলো।

কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয়পার্শ্বে (কুড়িল হতে বালু নদী) পর্যন্ত ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ২.৫ মিটার গভীরতায় ১০০ ফুট চওড়া খালের মাটি খনন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন ও উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া রমনা পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে “ঢাকাস্থ রমনাপার্কের অবকাঠামোগত এবং রমনা লেকসহ সার্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সৌন্দর্যবৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী, উত্তরা, কুড়িল ও পূর্বাচল এলাকায় ৩৯.০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ৫৫.০০ কিলোমিটার খাল-খনন করা হবে।

তুরাগ নদীর বন্যা প্রবাহ অঞ্চলের ৯১২৫.০০ একর এলাকার ৬২ শতাংশ জায়গা জলাধার হিসেবে সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট এলাকায় কমপ্যাক্ট টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিপিপি’র আওতায় ১০.২০ কিমি ফ্লাইওভার ও মিরপুরে স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ করা হবে।

চট্রগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিবেশ উন্নয়ন, চিত্তবিনোদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ্যের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও তার অগ্রগতি নিম্নরুপ:

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫টি খাল পরিষ্কার ও পুন:খনন কাজ চলমান রয়েছে। ২৪টি খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ চলমানরয়েছে। ৫৪টি ব্রীজ ও কালর্ভাটের কাজ চলমান। চট্টগ্রামের মুরাদপুর হতে লালখানবাজার পর্যন্ত ৬.২ কিলোমিটার ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং লালখানবাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬.৫০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চট্রগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ১৫.২০ কিমি রিংরোড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে ৩৫,৩৬৫টি প্লট উন্নয়ন এবং ৮৯১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১৮,১০৫টি প্লট উন্নয়ন এবং ৭,৯৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্লট ও ফ্লাট উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তাবায়িত হচ্ছে। ভব্যিষতে সারাদেশে ১৮,১৪৮ টি প্লট উন্নয়ন ও ১,৪১,৬৮৭ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং আরও ১০,৫৩০টি টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০৯টি প্রকল্পের আওতায় ৩,০৬৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারি কর্মচারিদের আবাসন সুবিধা ৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীতকরণে ঢাকা মহানগরীতে ১৩ টি চলমান প্রকল্পের আওতায় ৬,৮৭৯টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বাইরে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ০৪টি প্রকল্পের ২,৮৯৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আরও ০৮ টি প্রকল্পের আওতায় মোট ৮,৮৩৫টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ০৪টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতুর উভয় প্রান্তে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকার পূর্বাচলে আধুনিক ও নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীসম্পন্ন ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচল নতুন শহরে পিপিপি পদ্ধতিতে ৬০,০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ভিশন : ২০২১, ভিশন : ২০৪১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এবং সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সকল পরিকল্পনাই জনগণের কল্যাণে এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার। সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা এবং সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা। আর তাতে সুফলভোগী হবো আমরা অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকরাই।

মন্তব্য