আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
বগুড়ার উপশহর হাউজিংয়ে চলছে দখল উৎসব : নীরব কর্তৃপক্ষ

গত কয়েকদিন ধরে বগুড়া নিশিন্দারা হাউজিং এর কাঁচাবাজারের সামনের ফাঁকা জায়গায় সড়কের ধার ঘেঁষে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই নির্মান করা হচ্ছে ৩টি পাকা দোকানঘর। এ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমীনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেলে অভিযোগের সত্যতা। অবৈধ নির্মানের ছবি তুলতে গেলেই সরে যায়, রাজমিস্ত্রী ও লেবাররা। যেন তারা বোঝে, এই ছবি মিডিয়ায় গেলে তাদেরকে আইনী ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

পরে তাদেরকে বারবার জিজ্ঞাসা করলেও জানায়নি কে তাদেরকে এই নির্মানকাজ করতে কাজে লাগিয়েছে, কে তাদেরকে দিন শেষে মজুরি পরিশোধ করছে ? শুধু তাই নয় ওই কাঁচা বাজারের কোনো ব্যবসায়ী এমনকি হাউজিং সোসাইটির কোনো কর্মকর্তাও এব্যাপারে ভয়ে মুখ খুললোনা। তবে পেশাগত পরিচয় গোপন রেখে ভিন্ন কৌশলে অনেকের সাথে কথা বললে, একজন জানালেন কাজটি করছে মেহেদী সাহেব। পরক্ষণেই আরেকজন সেটা সংশোধন করে বললেন, সাহেব মানে? ওতো টোকাই, আবার সাহেব হল কবে? আরেকজন বললো সাহেবইতো এখন এই তল্লাটে সেই একমাত্র একচেটিয়া নির্মান সামগ্রীর কারবারি। গড়পড়তা খবর নিয়ে জানা গেল এই মেহেদী কিলার সোহেল ওরফে সুইপার সোহেল নামের দুজন গড ফাদারের নেতৃত্বেই একটি গ্রæপের নেতৃত্বে এখন।

বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহরে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলের উৎসব। এইসব অপরাধের সাথে জড়িতরা ক্ষমতাসীন দলের সাথে নামকাওয়াস্তে জড়িত থাকার রেফারেন্স ব্যবহার করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কর্তাদের সাথে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক গড়েই সব অপকর্ম নির্বিবাদে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্ত ভোগিদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি এই হাউজিং সোসাইটির তিন শতাধিক পরিবারের কেউ কেউ বললেন, ওদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই ভাই সিন্ডিকেটের ৫০/৬০ জনের আর্মস ক্যাডার সশস্ত্র অবস্থায় এসে উপস্থিত হয় মারধর করে। টাটকা উদাহরন দিয়ে ভুক্ত ভোগিরা জানালেন, মেহেদীর অবৈধ নির্মান কাজের সমালোচনা করেছে মর্মে খবর গোপন সুত্রে জানতে পেরে সামাদ নামের এক গ্রিল মিস্ত্রির যুবক ছেলেকে ছুরি মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ক্যাডার বাহিনী। এছাড়া হাউজিং সোসাইটির এক শীর্ষ নেতার ছেলেকে উন্মত্ত হয়ে খুজে বেড়াচ্ছে ক্যাডাররা। কিন্তু ভবিষ্যতে আরো লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে কেউই বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি। ভুক্তভোগীরা জানালেন, এই হাউজিং ও আশে পাশে যেকোনো নির্মান কাজ করলে বেশি দাম দিয়ে মেহেদীর কাছ থেকে ইট রড বালু সিমেন্ট দিতে হয়। ব্যবসা বানিজ্যের জন্য চাঁদা দিতে হয়। মাদক ব্যবসার ঘাঁটি এখন এই উপশহর। পুলিশ প্রত্যেক অপরাধের বিপরীতে মাসোহারা নিয়ে থাকে। রাত হলেই উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই কিলার সোহেল ও মেহেদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ‘নরক গুলজার ’ আসরের মধ্যমনি হয়ে থাকেন। তাই জেনে শুনে কে বিরোধিতা করবে তাদের ?

এদিকে প্রকাশ্যে বিনা অনুমতিতে হাউজিং এর মতো সংরক্ষিত জায়গায় পাকা দোকান ঘর নির্মানের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে হাউজিং এর এসডিই শান্ত ঘোষ জানালেন বিষয়টি তাদের কানে এসছে তবে অফিসিয়ালী তাদের জানা নেই। প্রসঙ্গত তিনি জানালেন, শুধু দোকান কেন ভাই, এখানে (হাউজিং এ) এখন বাড়িঘর মার্কেট সবই হচ্ছে, দখল হচ্ছে রাস্তাও, নোটিশ দিচ্ছি, উচ্ছেদের মামলা করছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছেনা, এর বেশি কি করতে পারি আমরা ?

মন্তব্য