আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘুষ দিয়ে রাজউক ও গণপূর্তের কাজ বাগাতেন গোল্ডেন মনির

আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোল্ডেন মনির ঘুষ দিয়ে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরের কাজ বাগিয়ে নিতেন। তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। গত ২০ নভেম্বর গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র্যাব। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১২ সালে দায়ের করা মামলায় গত ৩ ডিসেম্বর মনিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অপর একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। গোল্ডেন মনিরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজউকের পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসুকে।
এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রদীপ কুমার বসুর সাথে গোল্ডেন মনিরের সম্পৃক্ততার বিষয় বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথিতে দেখা যায় প্রদীপ কুমার বসু গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ করায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও শহীদ উল্লাহ খন্দকার স্বাক্ষরিত অপর এক প্রজ্ঞাপনে তার একটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত রেখে লুঘু দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দুদকের কর্মকর্তারা বলেন, একজন ব্যক্তির দুর্নীতি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে লঘু দণ্ড দেয়া এবং বিধি লঙ্ঘন করে দণ্ড দেয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে পদোন্নতি দেয়ার নেপথ্যে বিশাল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গোল্ডেন মনির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন উৎকোচ হিসেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, পরিপত্র গোপন রেখে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগে প্রদীপ কুমার বসুকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। ১৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বসুকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে মূল ব্যাচের সাথে ধারণাগত জেষ্ঠ্যতা দেয়ার বিধিগত সুযোগ ছিল না। তার পরও মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকারের সহযোগিতায় পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুদক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মনির কাকে কাকে ঘুষ দিয়েছেন সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত ৯ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে প্রয়োজনে আবার তলব করে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। কমিশন এরই মধ্যে তার আত্মীয়স্বজনের নাম-ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়েছেন। সেগুলো জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ দিকে গোল্ডেন মনিরের সম্পৃক্ততায় বুধবার রাজউকের পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামকে জেরা করে কমিশন। কমিশনের উপপরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বে তদন্ত দলের জেরায় তিনি অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।
দুদকের একজন পরিচালক জানান, গোল্ডেন মনিরের অবৈধ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছেন এবং মনিরের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়েছেন তাদের মধ্যে সাতজনকে তলবী নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রদীপ কুমার বসু ও শাহীনুল ছাড়াও এ তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সিবিএ নেতা আবদুল জলিল আকন্দ, নিম্নমান সহকারী মো: ওবায়দুল্লাহ ও উচ্চমান সহকারী আবদুল মালেক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম ওরফে সোনা শফিক ও সাবেক কাউন্সিলর এম এ কাইয়ুম। এদের মধ্যে কাইয়ুম বিদেশে রয়েছেন। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। নয়াদিগন্ত

মন্তব্য