আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
রিহ্যাব ফেয়ার-২০২১ : ছুটির দিনে নীড়ের খোঁজে

ফ্ল্যাট ও জমির প্লট কেনাবেচায় আকর্ষণীয় সব অফার লুফে নিতে ছুটির দিনে আবাসন মেলায় ক্রেতার ঢল নেমেছিল গতকাল শুক্রবার। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো মেলা উপলক্ষে দিচ্ছে ব্যাপক মূল্যছাড় ও উপহারসামগ্রী। ক্রেতারাও ভালো ফ্ল্যাট ও জমির প্রকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া মেলায় প্রথম দিনে তেমন ক্রেতা-দর্শনার্থীর আগমন না হলেও দ্বিতীয় দিনেই জমে উঠেছে রিহ্যাব আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলা। গতকাল দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। ক্রেতার আগমনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আবাসন ব্যবসায়ীদের অনেকেই। তারা বলছেন, এবার ক্রেতাদের ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে।
এক ছাদের নিচে আবাসন খাতের সব সেবা নিয়ে শুরু হয়েছে ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০২১’। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলায় ২২০টি স্টলে অংশ নিয়েছে প্রায় ১৫০টি আবাসন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ১৫টি নির্মাণসামগ্রী এবং ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে মেলায়। মেলা চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার সিঙ্গেল এন্ট্রির প্রবেশ ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মাল্টিপল এন্ট্রির প্রবেশ ফি ১০০ টাকা। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিটে একবার ও মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটে পাঁচবার মেলায় প্রবেশ করা যাবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত হওয়ার আগেই দর্শনার্থীদের আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ১০টায় মেলা খুলে দেয়া হলে সবাই প্রবেশ করেন মেলার বিভিন্ন স্টলের সামনে। একই সঙ্গে মেলায় আসা আবাসন কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন অফার এবং ছাড় নিয়েও কথা বলেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
শুক্রবার ছুটির দিনে দিনভর মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পছন্দের কোম্পানির ঠিকানা সংগ্রহ করেন অনেকে। ধারণা নেন বিভিন্ন প্রকল্পের অবস্থা ও মূল্য সম্পর্কে। দুপুর গড়াতেই দীর্ঘ লাইন দিয়ে মেলায় প্রবেশ করেন হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী।
এবার খোলামেলা পরিবেশে দর্শক-ক্রেতারা বেশি করে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পেয়েছেন। ছোট-বড় সব ডেভেলপারই ক্রেতাদের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে এবার রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন হারে মূল্যছাড় দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের উপহারও দিয়েছে। মেলায় ক্রেতা-গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিতে গৃহায়ণ খাতে ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক অংশ নেয়ায় ক্রেতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকল্প ও এর বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কম দামে জমির প্লট ও ফ্ল্যাটের পাশাপাশি কিস্তি সুবিধা পেয়ে খুশি ক্রেতারা। তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আবাসন ব্যবসায়ীরাও হরেক রকম অফার নিয়ে এসেছেন মেলায়। মেলা আয়োজক কমিটি জানায়, ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে প্লট কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে মেলায় আসেন। এখানে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করে চাহিদা অনুযায়ী দেখেশুনে তারা কিনতে পারবেন।
জেএমআই বিল্ডার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্টলের সামনে কথা হয় সাভারের বাসিন্দা তাজের সঙ্গে। মেলার প্রথম দিন উপস্থিত হয়েছেন ফ্ল্যাটের দাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিতে। তিনি বলেন, আমি এখনো কোনো চাকরিতে ঢুকিনি। মা-বাবাসহ সাভারে পরিবারের সঙ্গে থাকি। আব্বু কিছু টাকা জমিয়েছেন। এ বছরই একটা ফ্ল্যাট নিব আমরা।
রিহ্যাবের সহসভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদ বলেন, মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান। বাসস্থানের সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে রিহ্যাব। আমরা সব মানুষের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে ঠিক কী হবে, তা জানি না। এ নিয়ে সবার মাঝেই আতঙ্ক আছে। এজন্য সবাই (ক্রেতারা) এবারের মেলাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এবার সাধ্যের মধ্যে ফ্ল্যাট দিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে হয়তো এ সুযোগ থাকবে কিনা, বলা মুশকিল। একদিকে রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ড্যাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে ক্রেতার আগমন খুবই সন্তোষজনক।
উত্তরা থেকে মেলায় এসেছেন পিয়ারা বেগম। বলেন, উত্তরায় আমার পাঁচ কাঠার জমি আছে। এখন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করব, সেখানে কীভাবে ভবন করা হয়। নিজে যদি বিল্ডিং করতে না পারি, তাহলে ভালো কোনো আবাসন কোম্পানিকে ভবন নির্মাণের জন্য দিয়ে দেব। মিরপুরের বাসিন্দা তারেক ফিরোজ বলেন, রাজধানীতে স্বপ্নের আবাসনের চাহিদা সবারই থাকে। আমি এসেছি, এখানে মূলত মিরপুর এলাকার কোনো অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটের খোঁজে। ভালো মান ও সাধ্যের মধ্যে পেলে আজই বুকিং দেব।
এর আগে গত রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে রিহ্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ সোহেল রানা। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার শুরু হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৪টি মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সাল থেকে বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, সিডনি, কাতারে একটি করে এবং দুবাইয়ে দুটি রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব মেলা আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশে-বিদেশে গৃহায়ণ শিল্পের বাজার সৃষ্টি এবং তা প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। রিহ্যাব মেলার মাধ্যমে প্রবাসী ক্রেতারা যেমন দেশে তাদের পছন্দের আবাসন খুঁজে পেয়েছেন আবার এই ফেয়ারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গৃহায়ণ শিল্প এবং লিংকেজ শিল্প বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।
রিহ্যাব পরিকল্পিত আবাসনের পাশাপাশি রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২৬৯ প্রকার লিংকেজ শিল্প বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে ৪০ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল ২ কোটি লোকের খাদ্য নিরাপত্তা দিচ্ছে। সা¤প্রতিক সময়ে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও প্রস্তাবিত ড্যাপের কারণে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত বলে জানান তারা। ভোরের কাগজ

মন্তব্য