আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
আসল নয়, প্লট পেলেন নকল সত্য রঞ্জন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৫১ শতাংশ জমি ছিল কৃষক সত্য রঞ্জন মজুমদারের। পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের জন্য ২০ বছর আগে তাঁর সেই জমি অধিগ্রহণ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ওই প্রকল্পে তাঁর তিন কাঠার প্লট পাওয়ার কথা। প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামের তালিকায় সত্য রঞ্জনের নামও ছিল। কিন্তু প্লট বরাদ্দ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সত্য রঞ্জনের নামে বরাদ্দ প্লট হস্তান্তর করা হয়ে গেছে।

রাজউক ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি জালিয়াত চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সত্য রঞ্জনের নামে পৃথক আবেদন করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছে। ইতিমধ্যে জালিয়াত চক্রের দুজন ধরা পড়েছেন। তাঁদের একজন জিয়ারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ৫ জানুয়ারি তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, সত্য রঞ্জন মজুমদারের নামে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে তাঁর প্লট বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি চক্র।

আমরা মাত্র দুজনকে ধরতে পেরেছি। বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর পুরো ঘটনার রহস্য জানা যাবে। চক্রের সদস্যদের সঙ্গে রাজউকের কেউ জড়িত আছে কি না, সেটি তদন্ত শেষে জানা সম্ভব হবে।

এই ঘটনায় সত্য রঞ্জন গত ৩১ ডিসেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা করেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যে চক্র সত্য রঞ্জনের পরিচয়পত্র, জমির জাল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে, সে চক্রকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা গেছে। দুজন ধরা পড়েছেন। বাকিদের নামও জানা গেছে। চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সত্য রঞ্জনের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে। তাঁর তিন মেয়ে, এক ছেলে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। জমি অধিগ্রহণ করার পর থেকে সত্য রঞ্জন শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন। গত শনিবার রাতে মুঠোফোনে সত্য রঞ্জন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আশায় ছিলাম, রাজউকের প্লটটি আমি পাব। কিন্তু আমি প্লট পাইনি। এখন পথে পথে আমি ঘুরছি।’

সত্য রঞ্জন মজুমদারের পরিবার জানায়, প্লট বরাদ্দের জন্য ২০১৮ সালে তিনি রাজউকে আবেদন করেন। গত বছরের ৭ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় নাম ছিল সত্য রঞ্জনের। এর দুই দিন পর প্লট বরাদ্দ নিতে গিয়ে প্লট হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সত্য রঞ্জনের নামে যে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে, তাতে শাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি সত্য রঞ্জন হয়ে সব জায়গায় স্বাক্ষর করেন। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা জিয়ারুল। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন শহিদুল, মানিক, শাহজালাল ও আলম। তাঁদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

পুলিশ কর্মকর্তা রাসেল হোসেন বলেন, ‘আমরা মাত্র দুজনকে ধরতে পেরেছি। বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর পুরো ঘটনার রহস্য জানা যাবে। চক্রের সদস্যদের সঙ্গে রাজউকের কেউ জড়িত আছে কি না, সেটি তদন্ত শেষে জানা সম্ভব হবে।’ প্রথম আলো

মন্তব্য