আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
আবাসনে ফিরছে সুদিন

বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ে এক কোটি টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। শুধু তাই নয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই ঋণ গ্রহকদের কাছে জনপ্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তে উজ্জীবিত আবাসন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় থেকে আবাসন খাতে মন্দা চলছে। কিন্তু সহজ শর্তের এই ঋণ আবাসন খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ আক্টোবর আয়োজিত আবাসন মেলায় সংস্থাটি নিয়ে আসছে ঋণ সংক্রান্ত আকর্ষণীয় অফার। যা নিয়ে আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি। সংস্থাটির পুরান পল্টনের করপোরেশন অফিসে দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রিহ্যাবের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী বলেন, আবাসনে সহজ শর্তে আমরা এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেব। এক্ষেত্রে বাড়ি করতে এক কোটি আর ফ্ল্যাট ক্রয়ে ৮০ লাখ পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আসন্ন আবাসন মেলায় আমরা বেশকিছু অফার নিয়ে আসছি গ্রাহকদের জন্য। এর মধ্যে মেলায় ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে স্টল পরিদর্শন ফি অর্ধেক নেয়াসহ আরও সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে জানান হবে।

বিএইচবিএফসিতে বর্তমানে সাধারণ, গ্রুপ, ফ্ল্যাট, বর্ধিত, ২০ বছর মেয়াদি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত, পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ এবং সেমিপাকা, এমন সাত ধরনের ঋণ চালু আছে। এখন বাড়ি নির্মাণে একক, গ্রুপ এবং ফ্ল্যাট কেনা- এই তিন ধরনের ঋণ কর্মসূচি চালু হবে। পাশাপাশি নতুন ঋণ কর্মসূচি চালু করা হবে অনাবাসী বাংলাদেশি, পল্লি জনগণ ও কৃষকের আবাসন এবং আবাসন উন্নয়ন ও আবাসন মেরামত ঋণ কর্মসূচি—এই পাঁচ ধরনের।

এককভাবে বাড়ি নির্মাণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন এলাকার অতি উন্নত এলাকায় বর্তমানের ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা, দুই মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকায় ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ এবং টঙ্গী, সাভারসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

গ্রুপ বা দলগতভাবে বাড়ি নির্মাণে ঋণের সীমা দুই মহানগরীর অতি উন্নত এলাকায় গ্রুপের প্রত্যেকের জন্য বর্তমানের ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগের মতোই দুই মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকায় ৫০ লাখ এবং টঙ্গী, সাভারসহ বিভাগীয়-জেলা পর্যায়ে ৪০ লাখ টাকা রাখা হবে।

ফ্ল্যাট কেনার জন্য আগে সব এলাকার জন্যই সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হতো। এখন দেওয়া হবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের অতি উন্নত এবং অন্যান্য উন্নত এলাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া টঙ্গী, সাভারসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে ফ্ল্যাট কিনতে দেওয়া হবে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ।

সুদের হার বাড়ি নির্মাণে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ফ্ল্যাট কেনায় ১০ শতাংশ এবং টঙ্গী, সাভারসহ সব বিভাগীয় শহরে বাড়ি নির্মাণে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হবে।

এ ঋণ ব্যবস্থায় বেশ উজ্জীবিত আবাসন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এখনও রাজধানী ঢাকায় রিহ্যাবের অধীনে থাকা রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত রয়েছে। ফ্ল্যাট বিক্রি করতে না পেরে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় এ ঋণ গ্রাহকদের ফ্ল্যাট ক্রয়ে উৎসাহ জোগাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, আবাসন ব্যবসার মন্দাভাব গত কয়েক বছর ধরে চলছে। এখনও সেটা চলছে। তবে শিগগিরই মন্দাভাব কেটে যাবে।

বিএইচবিএফসি’র পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে ফ্ল্যাট বাণিজ্যের মন্দাভাব কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য