আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আবাসন খাতে মন্দা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে গৃহায়ন অর্থায়ন মেলা

রাজু আহমেদ : মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হলো বাসস্থান। প্রতিটি মানুষের যথোপযুক্ত বাসস্থান পাওয়ার অধিকার জাতিসংঘের ঘোষণা থেকেও প্রমাণিত। এছাড়া, সংবিধানেও বাসস্থানকে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহিৃত করেছে। নিজের একটা বাসস্থান মানুষের স্থিতিশীলতা, আত্মমর্যাদা এবং ব্যাক্তিত্বকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে জমির তুলনায় জনসংখ্যার অধিক্যের কারণে বাসস্থানের সংকট প্রকট। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি অধিকতর ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর শুরু হয় দেশ পূর্ণগঠন। মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তরাও অংশ নেয় আবাসনের উন্নয়নে। সুপরিকল্পিত ও সাংগঠনিকভাবে আবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে ১৯৯১ সালে মাত্র ১১জন সদস্য মিলে গড়ে তোলেন রিহ্যাব।

স্বাধীনতার পর রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যা কম থাকায় রাজউকের কার্যক্রমও ছিলো ছোট্র পরিসরে। সেই সময় ঢাকায় পরিকল্পিত কোনো আবাসনের ব্যবস্থা ছিলো না। বেসরকারি ডেভেলপারদের অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে রিহ্যাব সদস্যেদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঢাকায় আবাসন খাতের উন্নয়ন হতে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর দুই লক্ষ (এটা আনুমানিক একটা ফিগার) ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন রিহ্যাব সদস্যরা।

কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরে আবাসন ব্যবসার মন্দভাব চলছে। এই মন্দভাব থেকে বেরিয়ে আসার গতিটা খুব কম। এই অবস্থা এক দিনে তৈরি হয়নি। আবার খুব যে বেশি দিনের তাও নয়। মূলত ২০১০ সালের পর থেকে নীতি সহায়ক সংক্রান্ত নানাবিধ কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, এ খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অধিকাংশ ডেভেলপার উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন। ব্যবসার মন্দভাব থাকায় তাঁরা ওই ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। হাজার হাজার রেডি ফ্ল্যাট অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে।

অন্যদিকে, উচ্চহারের নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। আবাসন এমন একটি খাত যার সাথে অনেক কিছু জড়িত।

এদিকে, আবাসন খাতে চলমান মন্দা কাটিয়ে উঠতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী “গৃহায়ন অর্থায়ন মেলা-২০১৭”-র আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)। আগামি ১৯ অক্টোবর থেকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই মেলা শুরু হবে। চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। রিহ্যাবের সার্বিক সহযোগিতায় মেলায় অংশগ্রহণ করবে আবাসন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট ও আবাসন সামগ্রী উতপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলাটির উদ্বোধন করবেন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। মেলাটি সবার জন্য উম্মুক্ত।

মেলায় মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহায়তা প্রদান করবে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ। এছাড়া, সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় থাকবে গ্রীনবীজ এ্যাড পয়েন্ট। মেলায় ৮২টি প্যাভিলিয়ন ও ষ্টল অংশগ্রহণকারীদের জন্য বরাদ্দ দেবে কর্তৃপক্ষ। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

এই মেলা উপলক্ষে গত ১১ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএইচবিএফসি’র কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, মেলার মূল উদ্দেশ্যই গৃহায়ন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক ছাদের নিচে এনে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করা। এখানে একজন গ্রাহক তাঁর পছন্দের ফ্লাট কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে আবাসন খাতের বিভিন্ন ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, আমরা মনে করি, বিএইচবিএফসি’র এই উদ্যোগে আবাসন খাতে চলমান মন্দা কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মেলার মধ্যে দিয়ে বিদ্যামান সংকট উত্তোরণে এ খাতের সকল প্রতিষ্ঠানকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরো বলেন, মেলা উপলক্ষে বিএইচবিএফসি পাঁচটি পণ্য নতুন আঙ্গিকে চালু করছে। যার মধ্যে রয়েছে- নগর বন্ধু, প্রবাস বন্ধু, পল্লীমা, আবাসন মেরামত ঋণ ও আবাসন উন্নয়ন ঋণ। সহজ শর্তে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ প্রদান করা হবে।

বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিএইচবিএফসি ঋণের ব্যপ্তি সারা দেশে বিস্তুৃত করেছে- যা মেলার ঋণ প্রত্যাশি ও আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে। মেলা চলাকালীন একই সাথে ও দেশব্যাপী বিএইচবিএফসি’র সকল অফিসে ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদন ফ্রি ও পরিদর্শন ফি’র উপর ৫০% ছাড় প্রদান করা হবে। তিনি মেলার সর্বাত্বক সফলতায় সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, কর্পোরেশনের ফান্ড বৃদ্ধির জন্য বিএইচবিএফসি ইতিমধ্যেই আইডিবির সাথে ৮৫ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। যার মাধ্যেমে সাত হাজার ৯৭৬টি হাউজিং ইউনিট নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এবং এতে ৪৭ হাজার ৮৫৬ জন লোক সুবিধা ভোগ করবেন।

বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, কর্পোরেশনের শাখা বৃদ্ধির জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রথম পর্যায়ে এ বছরের মধ্যেই ৩০টি এবং পর্যায়ক্রমে আরো ৩০টি শাখা খোলা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন), এমপি বলেন গৃহায়ন অর্থায়ন মেলা এই সেক্টরে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তবে গৃহায়ন ঋণের সুদের হার সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

আগামি ১৯ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী গৃহায়ন অর্থায়ন মেলার সাফল্য কামনা করেন নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন), এমপি।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ, শাকিল কামাল চৌধুরী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) এবং গ্রীনবীজ এ্যাড পয়েন্ট এর সিইও আফতাব বিন তমিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য