আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
গৃহ ঋণে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আবাসনশিল্পের ফ্ল্যাট-প্লট ক্রেতাদের জন্য গৃহ ঋণ হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ— রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল। তিনি বলেছেন, নির্মাণশিল্পে জড়িত সব পণ্যে আর বাড়তি করারোপ করা যাবে না। জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ কমিয়ে ৭ শতাংশের নিচে আনতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে বিদেশে অবস্থানরত রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল আরও বলেন, আবাসনশিল্পের অন্যতম উপকরণ পাথর আমদানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। কিন্তু এই পাথর আমদানিতে ৬৮ শতাংশ শুল্ক ও কর রয়েছে। এই তথ্য জেনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও অবাক হয়েছেন। এখন অর্থমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি হলো— আবাসনশিল্পের অন্যান্য কাঁচামালের পর্যায়ে পাথর আমদানিতে শুল্ক ও কর হার কমিয়ে আনা হোক। বর্তমানে পাথর আমদানিতে যে হারে রাজস্ব আদায় হয়— তা অন্যায্য বলেও মনে করেন এই আবাসন উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছর অপ্রদর্শিত অর্থ ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবনে বিনিয়োগে দায়মুক্তি প্রয়োজন। পাশাপাশি অপ্রদর্শিত অর্থের ব্যবহার ও সেকেন্ডারি বাজার চালু করা হোক। বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে স্বল্প ও মধ্যবিত্তদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হোক। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উেস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ৫ বছরের জন্য ডেভেলপারদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। আবাসন খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং সুবিধা চালু করা হোক।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসনখাতে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ধারা ১৯বির যুগোপযোগী সংশোধন প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত রিহ্যাবের সুপারিশ হলো— আবাসন খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য গৃহায়ণ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতানে বিনিয়োগের জন্য আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ১৯বিতে ইনডেমিনিটি (দায়মুক্তি) রেখে সংশোধন করা প্রয়োজন। এর ফলে দেশের জাতীয় সম্পদ ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ১৯বি অবিলম্বে পুনঃপ্রবর্তন করা না হলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের অর্থের উৎস বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হলে, ভবিষ্যতে ওই সব বিনিয়োগকারী করজালের আওতায় চলে আসবে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। কিন্তু ১৯বিতে দায়মুক্তি না থাকার কারণে দেশের রাজস্ব আয় বাড়ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন— দুদক থেকে দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় সংক্রান্ত অজস্র চিঠি বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিকে পাঠানোর কারণে আবাসনখাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যা যৌক্তিক পর্যায়ে এনে বন্ধ করা অত্যাবশ্যক।

রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, আবাসনখাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি রি-ফাইন্যান্সিং চালু এবং ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন। ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কর ও ফি সর্বমোট ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা। আবাসনশিল্প রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর— মূসক বা ভ্যাটের হার কমিয়ে নতুনভাবে ভ্যাট আরোপ না করা। গৃহায়ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হার কমানো। আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫৩পি অনুসারে গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে নিয়মিত এসেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা। বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে তহবিল প্রদানের মাধ্যমে আবাসনখাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানো। রাজধানী উন্নয়ন কৃর্তপক্ষ— রাজউক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—সিডিএর আওতাভুক্ত ও বহির্ভূত এলাকায় সব জমির ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩এইচ ধারায় আরোপিত কর প্রত্যাহার করতে হবে। ক্রেতা, জমির মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোতে বিশেষ ঋণের প্রচলন করা প্রয়োজন। সরবরাহকারী বা সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ৫ বছরের জন্য ডেভেলপারদের অব্যাহতি প্রদান করা হোক। বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শহর এলাকায় ৫ বছর এবং শহরের বাইরের এলাকায় ১০ বৎসরের জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডের সুযোগ প্রদান করতে হবে। বিডি-প্রতিদিন

শেয়ার করুন