আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
বাণিজ্য মেলা শুরু ১ জানুয়ারি, চলছে স্টল নির্মাণ কাজ

প্রতি বছরের মতো এবারো বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮ (ডিআইটিএফ)। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি (সোমবার) থেকে এ মেলা শুরু হবে। চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। দেশের বাণিজ্য প্রসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী এ মেলায় প্রতিবছরই সমাগম ঘটে দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের। মেলা প্রাঙ্গণের ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে ২৩তম এই মিলনমেলা সফলভাব সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, বিদেশি দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এবারের মেলাকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে মেলায় ফিশ ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম প্রদর্শন করা হবে, শিশুদের জন্য থাকবে পার্ক, গেমিং জোন ও খেলার উপকরণ। তবে সবচেয়ে আকর্ষণ থাকবে মূল ফটকে। এবারের মেলার মূল ফটকে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

থাকছে দেশি-বিদেশি ৫২০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন
ইপিবি’র তথ্য মতে, এবারের মেলায় ১৪ ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশের ৫২০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে থাকছে- ৬৪টি প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি মিনি প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, ১৭টি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, ২৫টি মিনি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, চারটি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ছয়টি মিনি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ২৭টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন এবং ৮টি মিনি বিদেশি প্যাভিলিয়ন। এছাড়া, ৬৭টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৮টি বিদেশি স্টল, ২৬০টি সাধারণ স্টল ও ২৪টি ফুড স্টল।

ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিক ও কলাকৌশলীরা
আয়োজকদের পাশাপাশি মেলায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টল নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে। আগারগাঁও শেরে-বাংলা নগরস্থ অস্থায়ী মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যে চলছে স্টল, নিরাপত্তা টাওয়ার, ফোয়ারা, পার্ক, ফুড পার্ক, সড়ক মেরামতসহ বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক তৈরির কাজ। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিক ও কলাকৌশলীরা। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও মেলার সব প্রস্তুতি ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো
এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো এবং ভুটান। যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করবে।

মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে
মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেট গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালী ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রোকারেজ, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হার্বাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল।

আয়োজকরা জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে দৃষ্টিনন্দন ১৪টি বাগান, তিনটি রেস্তোরাঁ, ইকোপার্ক, শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ইত্যাদি।

মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিদেশি দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবারের বাণিজ্য মেলায়।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/জেডএইচ

মন্তব্য