আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
পর্দা উঠলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার

প্রতি বছরের মতো এবারো বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা উঠলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮ (ডিআইটিএফ) এর। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠে নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ মেলা শুরু হয়। চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবার মেলায় দেশ-বিদেশের ৫৮৯টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। এখান থেকে ক্রেতা বা ভোক্তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী দেশি-বিদেশি পণ্য কিনতে পারবেন। সোমবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৩তম মাসব্যাপী এই মিলনমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাণিজ্য মেলা চলবে। মেলায় প্রবেশে বড়দের ৩০ টাকা এবং ছোটদের ২০ টাকার টিকিট কিনতে হবে।

দেশের বাণিজ্য প্রসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী এ মেলায় প্রতিবছরই সমাগম ঘটে দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের। প্রতিবারের মতো এবারও নতুন আঙ্গিকে মেলা চত্বর সাজানো হয়েছে। পদ্মা সেতুর আদলে মূল ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের আকার দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের শেষ দিন রোববার (৩১ ডিসেম্বর) মেলা প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, মেলা প্রাঙ্গণের ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে এবার ৫৮৯টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকবে। এর মধ্যে ১১২টি বড় ও ৭৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন। থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে হয়, মেলায় ১০০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএমপি সিসিটিভি মনিটর করবেন। প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোভার স্কাউটরা থাকবে।

এছাড়া বাণিজ্য মেলাকে পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চ্যুয়াল ট্যুরের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, গুগলে দেশ-বিদেশ থেকে যে–কেউ, যেকোনো সময়ে অনলাইনে VR Goggles-এর সাহায্যে অনলাইনে বসে বাণিজ্যমেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ৩৬০ ডিগ্রি ইনসাইডসহ বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি, তাঁর জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র www.ditflive.com, www.bangabandhupavilion.com/org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে উপভোগ করা যাবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি 3D Truk-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন স্টলের পাশে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা রয়েছে। ডিআইটিএফ-২০১৮ এর লে-আউট প্ল্যান এবার ডিজিটাল ব্লো-আপ বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নটি নান্দনিক করে সাজানো হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম, দেশি-বিদেশি সকলে দেশ ও বঙ্গবন্ধুর সত্যিকার ইতিহাস জানতে পারে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই মেলা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারেই কাজ করে না, এটা একটা বিনোদনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। মেলা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুশৃঙ্খল করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল জানান, ২০২০ সাল থেকে পূর্বাচলে স্থায়ীভাবে বাণিজ্য মেলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে
মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেট গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালী ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রোকারেজ, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হার্বাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল।

আয়োজকরা জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে দৃষ্টিনন্দন ১৪টি বাগান, তিনটি রেস্তোরাঁ, ইকোপার্ক, শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ইত্যাদি।

মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে এর আগে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিদেশি দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবারের বাণিজ্য মেলায়।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/জেডএইচ

মন্তব্য