আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
রংপুরে এবারও কমছে বোরো আবাদের জমি

চাষের এলাকা কমিয়েও সেচে কুলোচ্ছে না রংপুর অঞ্চলের বোরো আবাদ। তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে এবার লক্ষ্যমাত্রা এসেছে মাত্র আট হাজার হেক্টরের। বিদ্যুৎ ও ডিজেল প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্ভর করছে চার লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমির সেচ। অবশিষ্ট ৬২ হাজার হেক্টরের বেশি জমির সেচ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আর চাহিদা মতো ডিজেলের সরবরাহ এখনও পর্যন্ত সেচ সরবরাহ সচল রেখেছে। গভীর, অগভীর নলকূপ দিয়ে মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে তুলে আনা পানি এখনও সবুজ সতেজ রেখেছে কৃষকের জমি। কিন্তু বোরো মৌসুমে কোনোরকম বিভ্রাটে সেচের পেছনে ব্যয়বৃদ্ধির শঙ্কা কাটছে না কৃষকের।

জামিল আহমেদ নামে এক কৃষক বলেন, কারেন্ট কিছুক্ষণ আছে, কিছুক্ষণ নাই। একটা মোটর বারবার চলে বারবার বন্ধ হয়। পানি চাহিদামতো মেকাপ দিতে পারে না। কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, যদি কারেন্ট না থাকে, মেশিন নিভে গেলে টাকা বেশি খরচ হয়। আরেক কৃষক আমির হোসেন বলেন, দুই এক ঘন্টা কারেন্ট না থাকাটা কোনো ব্যাপার না, ওটা ম্যানেজ করা যায়। যখন দেখা যায়, একদিনই থাকলো না, ওই একদিনই মেকাপ দেয়া খুব সমস্যা।

১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার মতো সেকেন্ডারি এবং টারশিয়ারি চ্যানেল এমনকী, আউটলেটসহ সবধরণের অবকাঠামো বিদ্যমান। তবু উজানে পানি না থাকায় মাত্র আট হাজার জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রায় নেমে এসেছে দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প- তিস্তা ব্যারেজ।

উত্তরাঞ্চলের রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আজিজ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এ বছর আমরা ১৫০০-২০০০ কিউসেক পানি পাচ্ছি। যদি ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কিউসেক পানি পেতাম, তাহলে আমাদের ফলন আরও ১০ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হতো।

রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, অনেক গরীব মানুষ কৃষিকে কাজে লাগিয়ে তাঁর দ্বীন -দরিদ্র অবস্থাকে ঘুচিয়ে উন্নতির দিকে হাঁটছিলো। কিন্তু ২০১৪ সালে যখন তিস্তার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করা হয়, তারপর থেকে সেটি নেমে এসেছে মাত্র আট হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদে।

প্রথম লাখ ১৪ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও পরে কমিয়ে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৭ হেক্টর নির্ধারণের কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সেচ-নির্ভর বোরোর আবাদ কমিয়ে স্বল্প সেচের ভুট্টা আবাদ বাড়াতে এই উদ্যোগ- জানান রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভুট্টার আবাদ গত বছরের তুলনায় এখানে কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে। যে ভুট্টা আবাদ চলছে এখন সেটা ১ লাখ হেক্টরের উপরে চেলে যাবে। সেক্ষেত্রে বাকি জমিটুকুও ভুট্টা আবাদের দিকে চলে যাবে।

তিস্তা প্রকল্পসহ বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত ২৪৭৫ টি গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচের আওতায় এসেছে চার লাখ ৩৭ হাজার ১৪১ হেক্টর জমির বোরো আবাদ।

সম্পাদনা: পিকেএম/জেডএইচ/আরবি

মন্তব্য