আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
হঠাৎ আঙ্গুল ফুল কলাগাছ রাজউক-এর ইমারত পরিদর্শক আবদুর রহিম

সাদাসিধে পোষাক পরিধান করেন ও অতি সাধারনভাবে চলেন। দেখলে কে বলবে এমন কর্মচারি বিশাল বিত্তবৈভব ও সম্পত্তির মালিক। ইমারত পরিদর্শক আবদুর রহিম। প্রায় এক দশক কাটিয়ে দিচ্ছেন একই জোনে। পর পর চারটি বদলির আদেশে তাকে একই জোনে রাখা হয়। বাকিরা বদলি হলেও তিনি রয়ে যান বহাল তবিয়তে। এখনও আছেন। দুদকের মামলা ও হত্যা মামলা কাঁধে নিয়ে তিনি দাপটের সাথে ইমারত পরিদর্শকের কাজ করে যাচ্ছেন। দুদকের মামলা, দেশের বাড়ির নিকটস্ত থানায় হত্যা মামলা, রাজউক অফিসের শত সমালোচনা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ কোন কিছুই তাকে পরাস্ত করতে পারছে না। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব ও জালজালিয়াতির অভিযোগও তাকে দুর্বল করতে পারছে না। এক কথায় তিনি এক অপ্রতিরোধ্য কর্মচারি। এক এগারোর সময় জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ মাস জেল হাজতে থাকার পরও তিনি চাকুরিতে বহাল তবিয়তে আছেন বলে রাজউক এর অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারি হতবাক। সুচতুর আবদুর রহিম যত সম্পত্তি করেছেন তার আত্মীয় স্বজনের নামে।

দুদকের অনুসন্ধান ও রাজউক থেকে পাওয়া তথ্য মতে আবদুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা শহরে একাধিক আলীশান বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। উত্তরা আবাসিক এলাকা ও বনশ্রী এলাকায় তার যে বাড়িঘরের সন্ধান পাওয়া গেছে তার আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি টাকা। একজন পরিদর্শক প্রায় ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেয়ে এত বিশাল সম্পত্তি কিভাবে করলেন তা রহস্যজনক। দুদক সূত্রে জানা গেছে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুদক থেকে তাকে নেটিশ করা হয়েছে। এছাড়া দুদক টিম অনুসন্ধান করে জানতে পায় ঢাকা শহরের উত্তরায় সেক্টর-১২, রোড ৬/বি, প্লট ৩০ ঠিকানায় আবদুর রহিমের যে বাড়ি আছে তার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। বনশ্রী এলাকায় ব্লক এইচ, রোড ২, প্লট এভিনিউ কর্ণার প্লট ঠিকানায় তার আরেকটি বাড়ি রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। বড়িটি সাত তলা নির্মান করা হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে আছে বিশাল কৃষি জমি। তিনি নিজস্ব প্রাইভেট কারে চলাফেরা করেন যার নম্বর ঢাকা মেট্রো ২৭-৬২২৩। গাড়িটি দামি ব্রান্ডের। ২০০৭ সালে রাজউক এর নকশা শাখায় কর্মরত অবস্থায় নকশা জালিয়াতির অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জনৈক ভুক্তভোগী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মামলা, কাঠগড়া এমনকি জেল হাজতে যেতে হয়। তার দেশের বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার খাককান্দা ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে আলিশান বাড়ি নির্মান করেছেন। বাড়িটি এলাকার সবার নজরে পড়ে। মেঝে থেকে দেয়ালের পুরোটাই দামি টাইলস দিয়ে মোড়ানো। তার গ্রামের বাড়ির নিকটস্ত লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে তার নামে নিকটন্ত থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। অবৈধ টাকার জোরে তার বিরুদ্ধে গ্রামের লোকজন তার বিরুদ্ধে টু শব্দটুকু উচ্চারন করতে পারছে না। এদিকে রাজউক এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে মাসিক বখরা দিয়ে তিনি একই জোনে এক দশক পার করে দেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউক এর একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি এই প্রতিবেদককে জানান। অবৈধ সম্পদ ও তার বিরুদ্ধে দুদক ও থানায় হত্যা মামলা সম্পর্কে তার বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিন সকল প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। রাজউক সূত্রে জানা গেছে ইমারত পরিদশকদের জোন পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ তৈরি হতে যাচ্ছে। এতে এক জোনের ইমারত পরিদর্শক অপর জোনে বদলি হওয়ার আদেশ হতে যাচ্ছে অথচ আবদুর রহিম একই এলাকায় থেকে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউক এর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারি বলছেন এর পেছনে রয়েছে তদবির ও টাকার খেলা। এ ব্যপারে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় আরও বিস্তারিত থাকছে।

মন্তব্য