আসন্ন রিহ্যাব নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের জয়ের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং সদস্যদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, গত নির্বাচনের মতো এবারও বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারে এই প্যানেল। ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে থাকা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (ব্যালট নং-১) ও লিয়াকত আলী ভূইয়া (ব্যালট নং-৭) এর নেতৃত্বে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন । শুরু থেকেই তারা ডোর-টু-ডোর প্রচারণার কৌশল গ্রহণ করেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রিহ্যাব সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের পরিকল্পনা, অতীতের কাজ এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। এই সরাসরি যোগাযোগের কারণে সদস্যদের সঙ্গে তাদের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন এই প্যানের নেতৃবৃন্দ।
ঐক্য পরিষদের প্যানেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ আক্তার বিশ্বাস (ভাইস প্রেসিডেন্ট-১), মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (ভাইস প্রেসিডেন্ট-২) এবং ইঞ্জিনিয়ার মহসিন মিয়া (ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩)। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) পদে ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোঃ শোয়েব উদ্দিন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। কখনও এককভাবে আবার কখনও যৌথভাবে প্রচার চালান তারা। পরিচালক পদেও ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরাও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ জাহিদ হোসাইন, হক মিনাল্লাহ শেতার, ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল ফরহাদ ফিলিপ, মোঃ আশিকুল হক, মোঃ মোবারক হোসেন, মোঃ ফারুক আহমেদ, প্রদীপ কর্মকার, মি. সুরাজ সরদার, মোঃ জহির আহমেদ, ক্যাপ্টেন মোঃ শাহ আলম, মিসেস উম্মে জাহান আরজু, মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ, মোঃ রাগিব আহসান, মোঃ আইয়ুব আলী, শেখ কামাল, মোঃ ইমদাদুল হক, মোহাম্মদ শহিদুল হক, ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, তাসনোভা মাহবুব সালাম, মোহাম্মদ জাফর এবং এ.এস.এম আব্দুল গফ্ফার মিয়াজী। তারা কখনও এককভাবে, আবার কখনও যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং সমর্থন চেয়েছেন।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরাও বসে ছিল না। তাদের মধ্যে অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) পদপ্রার্থী ড. মো. হারুন অর রশিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ পদপ্রার্থী এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ, মোঃ সুলতান মাহমুদ, এমদাদুল হোসেন সোহেল, এসএম ইমদাদ হোসেন সহ কয়েকজন প্রার্থী বিভিন্ন ব্যবসায়ীর অফিসে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সদস্যদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে ডেভেলপাদের সাথে সরাসরি কথা বলে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের উপস্থিতি ও প্রচারণার তৎপরতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। তাদের প্রার্থীরা শুধু ফোনে না, ধারাবাহিকভাবে সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি অফিস এবং বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করেছেন এবং একাধিকবার একই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। যা সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রার্থীদের সরাসরি উপস্থিতি ও যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা তাদের অফিসে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত গিয়েছেন এবং ভোট চেয়েছেন। কেউ কেউ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে তাদের বাসাতেও গিয়েছেন, যা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে। তবে যারা শুধু ফোনে এবং হোয়াটস আপে ভোট চেয়ে বিরক্ত করেছেন তাদের উপর ক্ষুব্ধ অনেক ভোটার। একাধিক সদস্য বলেন, “প্রার্থীরা আমাদের কাছে আসছেন, আমাদের কথা শুনছেন—এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমরা তাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছি।”
তাদের মতে, সরাসরি যোগাযোগ ও ধারাবাহিক উপস্থিতির কারণেই ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। কয়েক জন ডেভেলপার বলেন, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ও লিয়াকত আলী ভূইয়াকে যে কোন সময় যে কোন কাজে ফোন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়। এটা সবচেয়ে বড় উপকার। তারা এই ২ বছর নানা প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যেও সদস্য বান্ধব নানা কাজ করেছেন ধারাবাহিকভাবে। একজন ডেভেলপার জানান এই বার আমরা ভোট দিবো যাদের আমরা সব সময় কাছে পাই এবং অভিজ্ঞ, রাজউক প্রশাসন মিডিয় সবাই কে ম্যানেজ করতে পারে এমন ব্যক্তিত্বকে। এবারের নির্বাচনে ৩ প্যানেল নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যা বেশ উপভোগ করেন সাধারণ মেম্বাররা। একটা উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্টু ভোট করার সবার সহযোগীতা চেয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই সহ অন্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।